‘আমরা নিজেরা হল দখল করব না, কাউকে করতেও দেব না’
Advertisement
কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘আমরা নিজেরা হল দখল করব না, কাউকে দখল করতেও দেব না’—এই নীতির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর কোনো হল কিংবা কক্ষ দখলের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ।
বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ অনুষ্ঠান চলে।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসএম ফরহাদ বলেন, বাংলাদেশে যতবারই নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল গিয়ে হল দখল করেছে, অন্যদের পিটিয়ে বের করে দিয়েছে। ১৯৭১-এর পর, ১৯৭৫, ১৯৮১, ১৯৯০, ১৯৯১, ২০০১ কিংবা ২০০৮—প্রত্যেকটি নির্বাচনের পরই সরকারি দল ক্যাম্পাস দখল করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, একমাত্র ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল ব্যতিক্রম। একটি দল দুই শতাধিক আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু কোনো ক্যাম্পাসের কোনো হল বা রুম দখল করার সাহস করেনি। কারণ সেখানে ছাত্রশিবির ছাত্র সংসদে বিজয়ী হয়ে ঘোষণা দিয়েছিল—‘আমরা নিজেরা দখল করব না, কাউকে দখল করতেও দেব না।’
ডাকসুর জিএস হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, আমি, আমার ভিপি ও এজিএস—আমাদের কেউ হলে সিট নিয়ে থাকিনি। ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে হলে থাকার অধিকার থাকলেও আমাদের মাস্টার্স শেষ হওয়ায় আমরা সিট ছেড়ে দিয়েছি। আমরা স্পষ্ট বলেছি, এসব সিটে সাধারণ শিক্ষার্থীরা থাকবে, আমরা থাকব না।
ক্যাম্পাসের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ঢাবি ক্যাম্পাসের আশপাশের মার্কেট ও হলের দোকানগুলোতে আগে নিয়মিত চাঁদাবাজি হতো। ১৮টি হলের শতাধিক দোকান থেকে যে চাঁদাবাজি হতো, তার সব আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। গত এক বছরে আমাদের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো—আমরা শিক্ষার্থীদের একটি সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস উপহার দিতে পেরেছি।
অতীতের ছাত্র রাজনীতির তুলনা টেনে তিনি বলেন, ৯০-এর দশকে ছাত্রদল জয়ী হওয়ার পর নির্বাচনের কয়েক দিনের মধ্যেই ক্যাম্পাসে বোমাবাজি হয়েছিল। সেই সময়কার পত্রিকা খুললে এখনো বোমা হামলা, গোলাগুলি, ওপেন ফায়ার, রক্তপাত ও ক্যাম্পাস বন্ধের খবর চোখে পড়ে। এগুলোই ছিল তখনকার নিয়মিত চিত্র। কিন্তু আমরা সহিংসতামুক্ত ক্যাম্পাস উপহার দিয়েছি। এটি আমাদের অঙ্গীকার ছিল এবং আমরা সে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।
সংগঠনের সমালোচনা ও মতামত জানানোর সুযোগ প্রসঙ্গে এসএম ফরহাদ বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামতের পথ সব সময় উন্মুক্ত। সংগঠনের পেইজ, ই-মেইল, ফোন নম্বর কিংবা স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে যে কেউ যেকোনো পরামর্শ বা অভিযোগ জানাতে পারেন।
তিনি বলেন, তাও সুযোগ না পেলে প্রকাশ্যে সমালোচনা করবেন, এটা আপনাদের নাগরিক অধিকার ও দায়িত্ব। আপনাদের গঠনমূলক সমালোচনা ও মতামতই আমাদের চলার পাথেয়। আপনারা নিঃসংকোচে শিবিরের ভুলত্রুটি নিয়ে কথা বলবেন, সমালোচনা করবেন। আমাদের নিয়ে আপনারা ভাবেন এবং সমালোচনা করেন—এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।
অনুষ্ঠানে গুরুদয়াল কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আহসান উল্লাহর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক শেখ মো. রোকন রেজা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান মাহফুজ, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও গবেষক মো. জহিরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ বিল্লাহ এবং সেক্রেটারি আবু আহমেদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
আলোচনা সভার পাশাপাশি ইসলামী সংগীত, কাওয়ালি ও নাটিকা পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
