সারের ডিলারশিপের সুপারিশ তালিকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নাম
Advertisement
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের পটিয়ায় সারের ডিলার নিয়োগের সুপারিশ তালিকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতার নাম উঠে আসায় তীব্র তোলপাড় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, পটিয়া উপজেলায় মোট ১৮ জন সারের ডিলার নিয়োগের লক্ষ্যে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি জেলা কমিটির কাছে একটি প্রস্তাবিত তালিকা পাঠায়। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান ওই কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি সুপারিশপ্রাপ্ত ১৮ জনের নামের তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ওই তালিকায় দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও পরবর্তী আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তানভীর উদ্দিন সেজানের নাম দেখে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিষয়টি নিয়ে পটিয়া পৌরসভা ছাত্রদলের নেতা মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রাজু ফেসবুকে তালিকাটি পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন- বাহ কী চমৎকার! কিভাবে একজন পটিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা তানভীর উদ্দিন ইউনিয়ন পর্যায়ের সারের ডিলার পায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে সেই প্রশ্ন রাখলাম। আর আমি বা আমাদের মতো রাজপথের কর্মীদের কথা নাইবা বললাম। আল্লাহ মহান এবং তিনি উত্তম পরিকল্পনাকারী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নে ডিলার হিসেবে সুপারিশ পাওয়া তানভীর উদ্দিন সেজান উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিমের আপন ভাতিজা। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি নিজ বাড়ি ছেড়ে পটিয়া থানার পাশে বিওসি রোড এলাকায় নানার বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং মাঝে মধ্যে এলাকায় যাতায়াত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাব করে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এই নাম প্রস্তাবের ক্ষেত্রে একক কোনো ব্যক্তির দায় নেই; পুরো কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ও বিধিমোতাবেকই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে সরকার যাকে উপযুক্ত মনে করেছে, তাকেই সুপারিশ করেছে।
এদিকে সুপারিশের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের সুপারিশ বা ডিও লেটারের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি হয়েছে কিনা—তা জানতে তার ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
