ভুয়া ভাউচারে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিএমডিএর মেকানিক বরখাস্ত
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সেচযন্ত্রের প্রিপেইড মিটার রিচার্জের ভুয়া ভাউচার জমা দিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) পবা জোনে প্রায় ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
বিএমডিএর প্রাথমিক তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর মোতাহার হোসেন নামের এক সহকারী মেকানিককে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে পঞ্চগড় জোনে সংযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, পবা জোনের আওতাধীন নওহাটা পৌরসভার সিন্দুরঝুসুম্বী মৌজার একটি গভীর নলকূপের প্রিপেইড মিটার নষ্ট হওয়ার পর এর আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসের বেশি সময় মিটারটির তথ্য সংগ্রহে কোনো চেকিং কার্ড ব্যবহার করা হয়নি।
এ ঘটনায় গত ২০ জুলাই মোতাহার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি ২৬ জুলাই লিখিত জবাব দিলেও তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি। ফলে ২৭ জুলাই তার অনুকূলে বরাদ্দ করা সেচযন্ত্রের বরাদ্দ আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার দায়িত্বে থাকা গভীর নলকূপগুলোর প্রিপেইড মিটারের রিচার্জের তথ্য বিস্তারিত যাচাই করতে গিয়েই বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিকাশ, রকেট ও জনতা ব্যাংকের ডিলার পয়েন্টের পেমেন্ট স্লিপ ও ভাউচার দাখিল করে ২০১৪-১৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বিষয়টি ধরা পড়ার পর গত ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই মোতাহার হোসেন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে ২১ ও ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কৈফিয়ত তলব করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এসব কর্মকাণ্ডকে অসদাচরণ, পলায়ন, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট চাকরিবিধি অনুযায়ী মোতাহার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদেশে আরও বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন তাকে নিয়মিত পঞ্চগড় জোন অফিসে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে এবং পৃথক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে। কর্মস্থল ত্যাগের আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী মেকানিক মোতাহার হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বিএমডিএর পবা জোনের সহকারী প্রকৌশলী জামিনুর রহমান বলেন, মোতাহার অফিস থেকে অর্থ নিয়ে সেচযন্ত্রের জন্য বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতেন; কিন্তু দুই অর্থবছরে প্রায় ২৪ লাখ টাকা রিচার্জ না করেই তিনি ভুয়া ভাউচার ও স্লিপ জমা দিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, এ ঘটনায় এখন বিএমডিএর প্রধান কার্যালয় থেকে অধিকতর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে। তদন্তে এ জালিয়াতির সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
