ভুল স্টেশনে নেমে খোয়ালেন ম্যাকবুক, চোরের পিছু নিয়ে রাজশাহীতে জার্মান পর্যটক
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
চোরের পিছু নিয়ে রাজশাহীতে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘কাজটি কঠিন, তবে মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’ নাটোর রেলস্টেশন থেকে চুরি হওয়া ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরার সন্ধানে রাজশাহীতে এসে বৃহস্পতিবার এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার।
তবে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তার মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
ক্রিল ল্যান্ডার জানান, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য তিনি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। তখন স্টেশনের প্রথম শ্রেণির বিশ্রামকক্ষে পরিচয় হওয়া এক ব্যক্তির কাছে নিজের জিনিসপত্র রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে রেলের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছিলেন। কিন্তু বুথ থেকে টাকা তুলে ফিরে এসে তিনি দেখেন, সেই ব্যক্তি ও তার মালামাল—দুটোই উধাও। ব্যাগে তার একটি ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও একটি ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ছিল।
জানা গেছে, বগুড়া ঘুরে সান্তাহার থেকে ট্রেনে দর্শনার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন ক্রিল ল্যান্ডার। তবে ভুলবশত তিনি নাটোরে নেমে পড়েন এবং সেখানেই এ প্রতারণার শিকার হন। ঘটনার পর তিনি নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আমরা ল্যাপটপের কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে পারিনি। তবে আশা করছি দ্রুতই হদিস মিলবে। ব্যাগে পাসপোর্ট ছিল না; আমার পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন নিজের কাছেই ছিল। তবে ল্যাপটপে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। বাংলাদেশে এটিই আমার প্রথম সফর। পুলিশ আমাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছে।
বুধবার রাতে ক্রিল ল্যান্ডার রাজশাহী রেলস্টেশনের একটি হোটেলে অবস্থান করেন। তার থাকার ব্যবস্থা এবং খাবারের জোগান দেয় পুলিশ।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, নাটোর সদর থানায় জিডি হওয়ার পর নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার জিআরপি যৌথভাবে কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।
ওসি বলেন, প্রথমে ল্যাপটপটির লোকেশন রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় দেখায়। পরে রাত ১১টার দিকে পর্যটক রাজশাহীতে পৌঁছলে অবস্থানটি মহিলা কলেজের আশপাশে শনাক্ত হয়। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ, আরএমপির বোয়ালিয়া থানা, ডিবি ও র্যাব সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেস মালিক ও তত্ত্বাবধায়কদেরও এ বিষয়ে অবগত করা হয়।
তিনি আরও জানান, ল্যাপটপটিতে সরাসরি কোনো সিম না থাকায় এর সার্বক্ষণিক পিনপয়েন্ট লোকেশন পাওয়া কঠিন হচ্ছিল। রাতে অবস্থানের কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। চোর যাতে ডিভাইসটি বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলস্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির সংকেত পাওয়া যায়। ওই সময় সেখানে তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনের উপস্থিতির কথা থাকায় পুলিশ ট্রেন দুটিতে তল্লাশি চালায়। তবে তল্লাশিতে ডিভাইসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সঠিক লোকেশন নিশ্চিত হতে পারলেই মালামাল উদ্ধার সম্ভব হবে। বিদেশি পর্যটক আমাদের মেহমান। তার জিনিসপত্র যেন দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সেজন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট একযোগে কাজ করছে।
