বার নির্বাচন ঘিরে ফোরামে মারমুখী দুপক্ষ, বিএনপির দুই নেতাকে শোকজ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
বিএনপির দুই নেতাকে শোকজ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একপক্ষ অন্যপক্ষকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে আদালত চত্বর ও বার ভবনে পাল্টাপাল্টি মিছিল-সমাবেশ ও স্লোগান দিচ্ছে।
এর ধারাবাহিকতায় দুইপক্ষের নেতাদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে। আইনজীবী ফোরামের নেতাদের এই প্রকাশ্য বিরোধে সাধারণ আইনজীবীরা তীব্র বিব্রত বোধ করছেন।
তাদের মতে, বার সমিতির নির্বাচন ঘিরে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; এতে সাধারণ মানুষের কাছে আইনজীবীদের পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
এদিকে বার ভবনে হাতাহাতি, অশোভন আচরণ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান এবং মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাতকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু স্বাক্ষরিত নোটিশে তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এবারের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ফোরামের পক্ষ থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এইচএম আনোয়ার প্রধান।
অন্যদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান চান সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন সভাপতি পদে লড়ুক।
এ নিয়ে সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আনোয়ার প্রধানের বিরোধ বাঁধে। নির্বাচনের তারিখ যত এগিয়ে আসছে, তাদের দ্বন্দ্ব তত তীব্র হয়ে শেষপর্যন্ত ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নিয়েছে।
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির দ্বিতীয়তলায় সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবিরের কক্ষে প্রবেশ করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এ সময় সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আঞ্জুম আহমেদ রিফাত এবং অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নসহ পাঁচ-ছয়জন তার সঙ্গে চরম অশোভন আচরণ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা সাখাওয়াত হোসেন খানকে উদ্দেশ করে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন এবং আচরণের কারণ জানতে চাইলে তারা মারমুখী হয়ে ওঠেন। এছাড়া ঘটনার দিন অনলাইন গণমাধ্যমে আনোয়ার প্রধান দাবি করেন, তারা সাখাওয়াত হোসেন খানকে দুই ঘণ্টা আটকে রেখেছিলেন এবং পরে তিনি ক্ষমা চেয়ে চলে যান। নোটিশে এই দাবিকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে আরও জানানো হয়, ঘটনার পর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অভিযুক্তদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানালেও তারা সাড়া দেননি। পাশাপাশি দীর্ঘ দিন দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকা, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করা এবং গত ২৫ আগস্ট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, তার চেম্বার দেড় মাস ধরে তালাবদ্ধ রাখা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু জানান, এসব কর্মকাণ্ড দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সুনাম নষ্ট করেছে। তাই নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে; অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচএম আনোয়ার প্রধান বলেন, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বার ভবনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কিংবা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে আসেননি; তিনি এসেছেন একজন আইনজীবী হিসেবে। আমি দাপ্তরিকভাবে কোনো নোটিশ পাইনি, তবে আবু আল ইউসুফ খান টিপুর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি নোটিশ এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আইনজীবীদের জন্য বিএনপির সমর্থিত সংগঠন হলো জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। আমি যদি কোনো সাংগঠনিক ব্যত্যয় ঘটিয়ে থাকি, তবে সেই ফোরাম নোটিশ দিতে পারত। আর বারের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন হলে সমিতি ব্যাখ্যা চাইতে পারে। কিন্তু মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আমাকে এ ধরনের নোটিশ দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন না। সাংগঠনিক গঠনতন্ত্র ও বিধিমালার অজ্ঞ লোকদের দায়িত্ব দিলে দল ও সংগঠনের জন্য তা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।
