রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ডা. মো. জাওয়াদুল হকের কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে তালাটি খোলা হয়। এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তার উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়ে আসেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক ও তার সেকশন অফিসার নাজমুল হোসেনকে ‘মব’ বা দলবদ্ধভাবে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার মামলায় আরও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নগরীর বহরমপুর এলাকার নিজ নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—বহরমপুর এলাকার আলী আকবর হোসাইন ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলাল। প্রাথমিকভাবে তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য কিনা- তা জানা যায়নি।
এদিকে উপাচার্যের কক্ষের তালা খুলে দেওয়া প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেন বলেন, বহিরাগত কেউ কক্ষটিতে তালা ঝুলিয়েছিল। তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তালা খোলার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপাচার্যের কক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।
অন্যদিকে উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে রামেবি ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলী, যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, বর্তমান সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় তারা উপাচার্যকে বাসা থেকে সসম্মানে নিয়ে এসেছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন কোনো ধরনের দখল বা সন্ত্রাসীকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না। অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনায় দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপ-কমিশনার গাজীউর রহমান জানান, বুধবার দিবাগত রাতে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হলো। ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারেও অভিযান চলছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’ নামের ব্যানারে মিছিল নিয়ে রামেবি ক্যাম্পাসে যান রাজশাহী মহানগর বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার অনুসারীরা। তারা জোর করে উপাচার্যের কক্ষে ঢুকে তাকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। পরে তাকে কার্যালয় থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রামেবি’র অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্যকে একটি কাগজে জোর করে সই করতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে।
উপাচার্যের ভাষ্যমতে, তাকে কাগজটি পড়তে দেওয়া হয়নি এবং লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে তিনি সই করতে বাধ্য হন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হোসাইন। মামলায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

-6ac7c24a6a34c.jpg)