মহাভারত-রামায়ণের পৌরাণিক আবহে ২০১ প্রতিমার পূজামণ্ডপ
Advertisement
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
মহাভারত-রামায়ণের পৌরাণিক আবহে ২০১ প্রতিমার পূজামণ্ডপ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাগেরহাটের চিতলমারীর ঐতিহ্যবাহী চণ্ডীভিটায় এক ছাদের নিচে ২০১টি প্রতিমা বিগ্রহ নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের বর্ণাঢ্য দুর্গাপূজা। মহাভারত-রামায়ণের পৌরাণিক আবহে ২০১ প্রতিমার পূজামণ্ডপ ঘিরে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপ প্রাঙ্গণে এখন উৎসবের আমেজ ও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
প্রতি বছরই চরবানিয়ারী পশ্চিমপাড়া গ্রামের সর্বজনীন চণ্ডীভিটায় ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টিনন্দন আয়োজনে দুর্গাপূজা হয়ে থাকে। তবে এবার ২০১টি প্রতিমার সমন্বয়ে তৈরি এই সুবিশাল মণ্ডপ দেখতে লক্ষাধিক ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক মণ্ডপেই দেবী দুর্গার বিভিন্ন রূপ, সহচর এবং নানা পৌরাণিক আখ্যানকে কেন্দ্র করে মৃন্ময় মূর্তিগুলো নিপুণ হাতে গড়ে তুলেছেন কারিগররা। রূপক ও ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিমাগুলোর প্রতিটিতেই ফুটে উঠেছে নিখুঁত শিল্পকর্ম ও বৈচিত্র্য।
প্রতিমা ফুটিয়ে তুলতে মৃৎশিল্পীরা টানা তিন মাস ধরে কাজ করছেন। মণ্ডপটিতে বেদ, পুরাণ, চণ্ডী, রামায়ণ ও মহাভারত থেকে শুরু করে শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত এবং শ্রীশ্রী হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুরের ভাবাদর্শের প্রতিফলন দেখা যাবে। এছাড়া শিব-পার্বতী, রাধা-কৃষ্ণ, রাম-সীতা, হনুমান, সরস্বতীসহ বিভিন্ন দেব-দেবী ও সাধক-মনীষীদের পৌরাণিক চরিত্রের দেখা মিলবে এখানে।
কাঁচা মাটির কাঠামোয় প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর এখন শেষ মুহূর্তের রঙের কাজ চলছে। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই এসব শিল্পকর্ম দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো—সনাতন ধর্মের নতুন প্রজন্মকে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।
প্রধান ভাস্কর্যশিল্পী কিশোর বিশ্বাস যুগান্তরকে বলেন, পাঁচজন ভাস্কর্যশিল্পীকে নিয়ে টানা তিন মাস ধরে প্রতিমাগুলো তৈরি করছি। আমাদের বিশ্বাস—প্রতিমা হলো দেব-দেবী, তাই ভক্তদের মন জয় করতে এবং দেব-দেবীকে সন্তুষ্ট রাখতে প্রতিমায় নতুনত্বের ছোঁয়া দিতে আমরা সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে যাচ্ছি।
চণ্ডীভিটা দুর্গামন্দিরের সভাপতি সুনিল ঘরামী জানান, পাঁচজন ভাস্কর্যশিল্পী তিন মাস ধরে এ মূর্তিগুলো তৈরি করেছেন। পুরো চণ্ডীভিটাসহ পূজামণ্ডপ এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতারা সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শংকরী মজুমদার জানান, নিজেদের এলাকায় এমন একটি বর্ণিল আয়োজন দেখতে পাওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। এটি নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস জানতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
