খুলনায় বিশেষ অভিযানে ৮ দিনে গ্রেফতার ২৫৫, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
গত ৬ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত আট দিনে জেলায় ২৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ে একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনা রেঞ্জের নতুন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলায় এ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, রেজাউল করিম দায়িত্ব নেওয়ার পরই জেলাটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আট দিনে পরিচালিত অভিযানে ১৯টি মাদক মামলায় ৬৮৮ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৯০৫ গ্রাম গাঁজা ও ২০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি অস্ত্র মামলায় একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মোটরসাইকেল চেকিং অভিযানও চালানো হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ৮৭৫টি মোটরসাইকেল পরীক্ষা করে ২৬৬টি মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি ১৯৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
বি-কোম্পানির সদস্য গ্রেফতার
বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৯ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে রূপসা থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল রূপসার রামনগর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রাজু মোড়ল (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে একটি পিস্তল ও ৭.৬৫ এমএমের দুই রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। তিনি রামনগর এলাকার ইমান আলী মোড়লের ছেলে।
এ ছাড়া রূপসা থানা এলাকায় আলোচিত সন্ত্রাসী গ্রুপ বি-কোম্পানির সদস্য হিসেবে চিহ্নিত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. মিরাজ গাজী (৩৮), মো. শামিম শেখ (২৭), মো. সাজ্জাদ হোসেন সাগর (২৩), সাইদুল সাইদুর ইসলাম (৪১), সাব্বির হোসেন (২৮), ইয়াছিন আরাফাত ওরফে রাজু (৪৪), মো. কামাল শেখ (৪০), মো. রনি মোল্লা (২৮) এবং সুমন হাওলাদার (৩১)।
হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার
এদিকে, গত ১৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের একটি দল হাটবাটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনুপম মহলদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তিনি হাটবাটি এলাকার নিভান মহলদারের ছেলে। বটিয়াঘাটা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার তদন্তে অভিযুক্ত হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অনুপম মহলদারের বিরুদ্ধে আরও তিনটি হত্যা মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে খুলনা মহানগরীর খুলনা থানায় ২০১৯ সালের ৮ মার্চ দায়ের করা একটি হত্যা মামলাও রয়েছে। ওই মামলার অভিযোগপত্রে তার নাম রয়েছে।
২০১৯ সালের ৭ মার্চ খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে হাবিবুর রহমান সবুজ নামে এক যুবকের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে অনুপম মহলদারের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের খালিশপুর থানায় ২০১৩ সালে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও তার নাম রয়েছে। খুলনা জেলার ফুলতলা থানায় ২০১৪ সালে দায়ের করা আরেকটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়।
বটিয়াঘাটা থানায় ২০০৯ সালে দায়ের করা একটি চুরির মামলায় অনুপম মহলদারের তিন বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ, অপরাধীদের গ্রেফতার এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে খুলনা পুলিশ।
