চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিলের জামিন নামঞ্জুর
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা রয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাঁদাবাজির মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন চট্টগ্রামের আলোচিত ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন বগা। তবে শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। পাহাড়তলী কলেজের শিক্ষককে মারধর, পুলিশের ওপর হামলা, খুলশী থানার তৎকালীন ওসিকে হুমকি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর হৃদয় হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক ঘটনায় আলোচনায় আসেন বগা।
ভুক্তভোগী শেখ মুহাম্মদ আরিফের আইনজীবী ইমরানুল করিম পারভেজ বলেন, বগা তার মক্কেলের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। টাকা না দেওয়ায় তার সশস্ত্র অনুসারীরা মক্কেলের ভাড়াটিয়ার ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৬ অক্টোবর বগাকে প্রধান আসামি করে খুলশী থানায় ২৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ২০০ জনকে। ওই মামলাতেই আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন বগা। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২৯ আগস্ট পাহাড়তলী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মিজানুর রহমান চৌধুরীকে তুলে নিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে বগার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩ সেপ্টেম্বর মামলা হয়। মামলা নেওয়ার জেরে ওই দিন রাতে তৎকালীন খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিমের সরকারি মোবাইল ফোনে কল করে বগা তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং উলঙ্গ করে পেটানোর হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর বগাকে গ্রেফতারে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় বগার অনুসারীরা ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তৎকালীন ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন এবং ওসির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তবে ওই অভিযানে বগাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় বগা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর খুলশীর ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় সবজি বিক্রেতা কিশোর হৃদয় (১৬) হত্যাকাণ্ডের পর আবারও আলোচনায় আসেন বগা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদয় ৫জি নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিল। পূর্ববিরোধের জেরে ৭জি নামের আরেকটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সে নিহত হয়। ৭জি গ্রুপটি বগা ও তার ছোট ভাই রকি হোসেন পিচ্চি পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডেও বগার যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ।
সবশেষ ৬ অক্টোবর রাতে বগাকে গ্রেফতারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মেয়র শাহাদাত হোসেনের হস্তক্ষেপে অভিযান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরদিন মেয়র শাহাদাত তৎকালীন ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তোলেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সিটি এসবিতে বদলির আদেশ দেন। পরদিন তাকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে নগর ভবনে অভিযানের দিন ওসি আবদুর রহিম ছুটিতে ছিলেন।
খুলশী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বগার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুটি মামলার তদন্ত করেছি। চাঁদাবাজির মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বগার রিমান্ড চাওয়া হবে। অন্য মামলায় তিনি হাইকোর্টের জামিনে রয়েছেন।এ ছাড়া কিশোর হৃদয় হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো এবং অস্ত্র মামলায় তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হবে।
ওয়াকিল হোসেন বগা চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। খুলশী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা রয়েছে।

-6ad4ded9b945d.jpg)