ড. খন্দকার মারুফ হোসেন
বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকে
Advertisement
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বে অনন্য নজির স্থাপন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজার সপ্তমীতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ১৮টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে বিভিন্ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক বড় রাষ্ট্রেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও অশান্তি বাড়ছে। সেখানে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। এটি বিএনপির অবদান। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট থাকে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মুসলিম, সনাতন, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ শত শত বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধেও সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্য ধর্মের মানুষের কাছে বিএনপিই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় থাকে, তখন সবাই নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনে পারস্পরিক বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা বজায় রাখা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের সমালোচনা করে খন্দকার মারুফ বলেন, সেই সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দিন কেটেছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও নিরাপত্তাহীনতায়। মানুষ নির্যাতন ও দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। নিরাপদে পূজা উদযাপন করতে পারেননি। সংখ্যালঘু তকমা দিয়ে আওয়ামী লীগ এসব ধর্মের মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দুর্গাপূজাকে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মূলত অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক।
এবারের দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের আশ্বাস দিয়ে খন্দকার মারুফ বলেন, পূজা উদযাপনে ভয় বা শঙ্কার কোনো কারণ নেই। নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ষড়যন্ত্র ও সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরাও প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।
এদিন দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর, মালীগাঁও, সুন্দলপুর, বিটেশ্বর, ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের ১৮টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজেদুল ইসলাম পলাশ, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল হাশেম, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এমএ লতিফ ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, আরিফ মাহমুদ, শাহ আলম সরকার, রোমান খন্দকার, মোরশেদ আলম, ডা. মোসলেম, আবদুল বাসেদ ও রিমন খন্দকারসহ অনেকে।
