ড. খন্দকার মারুফ
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অঙ্গীকারে জনমনে উচ্ছ্বাস
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অঙ্গীকারে জনমনে দারুণ উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা সদরে ‘মারুফ ভিলা’ প্রাঙ্গণ এবং মেঘনা উপজেলা সদরে স্থানীয় বিএনপির পৃথক দুটি প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ১ অক্টোবর ফেনী যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রীকে বিপুলভাবে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে সভা দুটি আয়োজন করা হয়।
ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় ভাসছে গোটা দেশ। আর এই স্বস্তির বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার নেতারা বিদেশে বসে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। জনগণ এই গণধিকৃত ও নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের সহিংসতার অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেবে, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য তারেক রহমানের ভাষণ জাতিসংঘে নজিরবিহীন ইতিহাস হয়ে থাকবে। ভাষণে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত, সম্মানিত হয়েছি। এতে আগামী দিনে দেশ ও জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।’
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ দ্রুত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দাবি করে ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সংগঠনের এটা সহ্য হচ্ছে না। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও শেখ হাসিনা ও তার নেতাকর্মীদের হুঁশ হয়নি। বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রের নানা ছক তৈরি করছে। নিজের জন্মভূমিকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এদের একটু বুক কাঁপে না। কারণ দেশ ও জনগণের জন্য ফ্যাসিস্ট লীগের কোনো দয়ামায়া নেই। তাদের এসব কুকর্ম দেশদ্রোহিতার শামিল।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার গায়ের জোরে বিনাভোটে ১৬ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্র ধ্বংস করেছে। বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।’
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, ‘এত অপরাধ করার পরও হাসিনা ও তার নেতাকর্মীদের কোনো অনুশোচনা নেই। ভুল স্বীকার করে একবার ক্ষমাও চায়নি। বরং বড় বড় আওয়াজ দিচ্ছে। দেশে একটি প্রবাদ আছে, “চোরের মায়ের বড় গলা”। আওয়ামী লীগকে অবশ্যই এখন অনুধাবন করতে হবে, জনগণ এখন অনেক সচেতন ও বুদ্ধিমান। সহিংসতা ও চাপাবাজির দিন শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগকে ছাড় দেওয়া যাবে না। তারা যেখানে সহিংসতা কিংবা জনস্বার্থ নষ্ট করতে চাইবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গত ১৬ বছর জুলুম-নিপীড়ন চালিয়েছে। প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। স্বাধীনতার পরে এই দলটি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তারা নিজ দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য একটি দেশের দাসত্ব ও স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যস্ত ছিল।’
জনগণের জানমাল ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও অশুভ তৎপরতা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
এর আগে সকালে মেঘনা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
দাউদকান্দির সভায় পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার এবং মেঘনায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী সভাপতিত্ব করেন।
দুটি সভায় উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একেএম শামসুল হক, দাউদকান্দি বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম.এ. লতিফ ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা জসিমউদ্দিন আহমেদ, পিটার চৌধুরী, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, এস.এম. সালাহউদ্দিন সরকার, কাউসার আলম সরকার, এম.এম. মিজানুর রহমান, জয়নাল আবেদিন, আবু ইউসুব ময়ন, ডা. আবদুল কাইউম, দিলারা শিরীন, কামাল হোসেন, ভিপি শাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া ও রোমান খন্দকার প্রমুখ।
