মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি দমনে সরকার আপসহীন: খন্দকার মারুফ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদ দমনে সরকার আপসহীন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
বুধবার কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার মারুফ বলেন, ‘দুর্নীতি ও অপরাধ দমনে সরকার শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। অপরাধীর কোনো আদর্শ নেই, দল নেই। এদের কোনো ক্ষমা নেই। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে যাতে তারা বেরিয়ে যেতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, একটি স্বনির্ভর, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। চলমান উন্নয়ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি অত্যন্ত জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত সাত মাসে দেশ দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ প্রসঙ্গে খন্দকার মারুফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ ছিল দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক। এতে জাতীয় স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। এই ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা ও অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে জনগণ উচ্ছ্বসিত হয়েছে। এই স্বস্তির বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে শেখ হাসিনা ও তার নেতারা বিদেশে বসে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জনগণ নিষিদ্ধ সংগঠনের সহিংসতার সব অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দেবে বলে মন্তব্য করেন খন্দকার মারুফ।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের ভাষণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত ও সম্মানিত হয়েছি। এর ফলে আগামী দিনে দেশ ও জনগণের জন্য বহুবিধ কল্যাণ বয়ে আসবে।
খন্দকার মারুফ বলেন, তারেক রহমান জাতিসংঘের ভাষণে ফ্যামিলি, ফার্মার্স ও ই-হেলথ কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাগুলো সমন্বয় করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ব্যাংক বা মোবাইল ওয়ালেটে সরাসরি প্রণোদনা পৌঁছানো এবং কৃষি ভর্তুকি ও চিকিৎসাসেবা সহজ করার সুযোগ থাকবে বলে তিনি জানান।
বিগত সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে খন্দকার মারুফ বলেন, ওই সরকার চরম দুঃশাসন, জুলুম ও নিপীড়ন চালিয়ে দেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্র ধ্বংস করেছে। তারেক রহমান সেই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে জনগণকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছেন। আগামী দিনে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম পলাশ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার একেএম শামসুল হক, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম. এ. লতিফ ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা।
