হাসপাতালের ১৫ ফ্যান চুরি, বিএনপি নেতার ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড
Advertisement
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অব্যবহৃত কক্ষের তালা ভেঙে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখ নামে এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
মো. মান্না শেখ বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে।
পুলিশ জানায়, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির ঘটনায় মান্না শেখকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনা জানাজানির পর গা-ঢাকা দিয়েছিল মান্না, পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার বিকালে ফরিদপুর বিচারক আদালতে প্রেরণ করলে আদালত তাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি কক্ষের তালা ভেঙে এসব মালামাল চুরি করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক মান্না শেখ। পরদিন শনিবার সকালে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনের পেছনে অবস্থিত অব্যবহৃত ক্যান্টিন কক্ষের তালা ভেঙে মালামালগুলো নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালটিতে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরির বিষয়টি ধরা পড়েনি। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে মালামাল নিয়ে বের হতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ তদন্তে মাঠে নামে। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্তের পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। চুরির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মান্না আত্মগোপনে যান। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল এলাকায় অবস্থানকারী বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালকদের কেউ কেউ এসব ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন বলেও দাবি তাদের।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তের পর গ্রেফতার করা হয়। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে তাকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
