২৬ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী মেরিল সুমন গ্রেফতার
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রংপুরের আলোচিত সন্ত্রাসী রাজিব হোসেন সুমন ওরফে ‘মেরিল সুমনকে’ গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি), রংপুর সদর দপ্তরের সদস্যরা। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেশের বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে এসআরবি। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সোমবার দুপুরে নগরীর উত্তম এলাকায় এসআরবি-১৩-এর রংপুর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারের বিষয়টি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেরিল সুমনের বিরুদ্ধে থাকা ২৬টি মামলার মধ্যে হত্যাচেষ্টা ও হামলা মামলা ছাড়াও- মারধর ৮টি, চাঁদাবাজির ৪টি, ডাকাতি প্রস্তুতির ৩টি, অস্ত্র আইনে ৬টি, হত্যা ও অপহরণের একটি করে, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১টি, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত একটি এবং দ্রুতবিচার আইনে ১টি মামলা রয়েছে।
এসআরবি-১৩-এর কর্মকর্তারা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, মেরিল সুমন রংপুর নগরীর সিও বাজার এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযান-সংক্রান্ত বক্তব্যে তার ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৫ সালে রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন র্যাব-৫ তাকে গ্রেফতার করেছিল। ২০১৯ সালে রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিদেশি পিস্তল, রিভলবার, গুলি, ওয়ান শুটারগান ও চায়না কুড়ালসহ তৎকালীন র্যাব-১৩ তাকে গ্রেফতার করেছিল।
এছাড়া ২০২৩ সালে রংপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পিস্তল ও ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করে বলে জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তাকে গ্রেফতার করেছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, মেরিল সুমন নিজস্ব একটি বাহিনীর মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণ করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
গ্রেফতারের পর বিকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শারীরিক অবস্থা পরীক্ষার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে তাকে একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
