চোখের সামনে দিয়ে যায় ট্রেন, ওঠার সুযোগ নেই ৮ উপজেলাবাসীর
Advertisement
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চোখের সামনে দিয়ে ছুটে যায় ট্রেন অথচ তাতে ওঠার সুযোগ নেই। ট্রেনে চড়তে হলে যেতে হয় প্রায় ৬০ কিলোমিটার ঘুরে। এমন ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশনে ঢাকাগামী তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজারের কয়েকটি উপজেলার বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় পর্যটননগরী কক্সবাজার উপকৃত হলেও চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, লামা, আলীকদম, বাঁশখালীসহ আশপাশের উপজেলার মানুষ প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। এসব এলাকার যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে কক্সবাজার সদর কিংবা চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অথচ চকরিয়া স্টেশনে কয়েক মিনিটের যাত্রাবিরতি চালু হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ সরাসরি রেলসেবার আওতায় আসবেন।
সম্প্রতি ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস চালুর ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চকরিয়া স্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের ট্রেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার স্টেশনে থামলেও মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ জনপদগুলোর যাত্রীরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীর বাসিন্দা ইউসুফ বদরী বলেন, ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ অনেকটা পর্যটকনির্ভর হয়ে আছে। কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী দুটি ট্রেন চলছে, আরও একটি চালুর উদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও আলীকদমসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে ট্রেনে উঠতে চট্টগ্রাম অথবা কক্সবাজার যেতে হচ্ছে। চকরিয়া স্টেশনে ট্রেন থামলে কক্সবাজারের অধিকাংশ মানুষের উপকার হবে।
কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও পেকুয়ার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু বলেন, চকরিয়া থেকে ট্রেনে ঢাকায় যেতে চাইলে আগে উলটো দিকে কক্সবাজার যেতে হয়। চকরিয়া স্টেশনের ওপর দিয়ে ট্রেন চললেও সেখানে ওঠার সুযোগ নেই। কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম গিয়ে ট্রেন ধরার চেয়ে বাসে যাতায়াত করাই সুবিধাজনক মনে হয়। চট্টগ্রামে যানজটের কারণে অনেক সময় স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ট্রেন ছেড়ে যায়। আবার আগে পৌঁছালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। বাড়ির পাশে রেল যোগাযোগ চালু হলেও স্থানীয়রা এর সুফল পাচ্ছেন না। এ ভোগান্তি দূর করতে পর্যটক এক্সপ্রেস ও মহানগর এক্সপ্রেসের চকরিয়া স্টেশনে যাত্রাবিরতি চান তিনি।
চকরিয়ার প্রবীণ সাংবাদিক ইবনে আমিন বলেন, আমরা শুধু ট্রেনের আসা-যাওয়া দেখি, যাতায়াতের সুযোগ পাই না। ভেবেছিলাম, চকরিয়ায় রেল যোগাযোগ চালু হলে আমাদের যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু ঢাকাগামী কোনো ট্রেনই চকরিয়া স্টেশনে থামে না। এখন ট্রেনের আসা-যাওয়া দেখেই মনকে সান্ত্বনা দিই।
কুতুবদিয়ার বাসিন্দা ফাহিম আহমেদ জানান, কক্সবাজার থেকে ঢাকার রেল যোগাযোগ তাদের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করলেও কক্সবাজার গিয়ে ট্রেনে ওঠার চেয়ে চট্টগ্রাম তুলনামূলক কাছে। ফলে তারা রেলসেবা ব্যবহার করতে পারছেন না। চকরিয়া স্টেশনে ট্রেন থামলে চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার বাসিন্দারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। ঢাকা-কক্সবাজার রুটের প্রতিটি ট্রেনকে কয়েক মিনিটের জন্য চকরিয়ায় থামানোর দাবি জানান তিনি।
লামা উপজেলার বাসিন্দা হুজ্জাতুল নাজনীন জানান, রেল যোগাযোগ হাতের কাছে থাকলেও সহজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। চকরিয়া স্টেশনে ট্রেন থামলে তারাও এ সেবার সুবিধা নিতে পারবেন।
এক ভিডিও বার্তায় পেকুয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, মাতারবাড়ী ও কুতুবদিয়াকে ঘিরে একটি অর্থনৈতিক বলয় গড়ে উঠছে। অথচ ঢাকা-কক্সবাজার রেল যোগাযোগে এসব এলাকার মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে আশপাশের আটটি উপজেলা রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টা অনেকটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কক্সবাজারের রেলসেবা আমাদের জন্য আর্শীবাদ কিন্তু অধিকাংশের ব্যবহারের সুযোগ নেই।
রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় চকরিয়া রেলস্টেশনে অন্তত পাঁচ মিনিটের জন্য আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল হবে।
