Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ, মাদ্রাসায় ভাঙচুর-লুটের পালটা অভিযোগ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ, মাদ্রাসায় ভাঙচুর-লুটের পালটা অভিযোগ

ফাইল ছবি

Advertisement

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সি এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আদালতে শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। 

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে নিপীড়নের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলছে।

ঘটনায় গ্রেফতার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ ঘিরে শিশুটির পরিবার এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পালটাপালটি অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলতে চায়নি। পরে মা-বাবাকে ঘটনার কথা জানায়।

শিশুটির বাবার করা মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠায় পুলিশ। গত ২২ অক্টোবর গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালতের পরিদর্শক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানান, বিচারক শিশুটির বক্তব্য শুনে তা জবানবন্দি হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

শিশুটির মা মালিহা আক্তারের দাবি, মাদ্রাসা থেকে ফেরার পর মেয়েকে ভীত ও মনমরা দেখাচ্ছিল। কী হয়েছে জানতে চাইলে সে প্রথমে বলতে ভয় পায়। শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে মারধর করা হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও শিশুটি মাকে বলেছিল বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সরাসরি সম্প্রচারের সময় স্ত্রীকে ফোন করেন। তখন মালিহা মেয়ের কাছ থেকে শোনা ঘটনার বিবরণ দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি শিক্ষকের অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের অভিযোগ জানায় এবং ঘটনাস্থল হিসেবে মাদ্রাসার সিঁড়ির কথা বলে।

মালিহার অভিযোগ, সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই জানিয়ে শিক্ষক শিশুটিকে বিষয়টি কাউকে না বলতে ভয় দেখিয়েছিলেন। মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা শোনার পর তিনি মাদ্রাসার এক শিক্ষিকা লুনাকে বিষয়টি জানান। ওই শিক্ষিকা ‘অভিযুক্ত’ শিক্ষককে আরেকটি সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল আলাউদ্দিন সাকিবকেও বিষয়টি জানান বলে দাবি করেন মালিহা।

তার ভাষ্য, পরদিন সিঁড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পুরুষ শিক্ষকের ক্লাশের সময় একজন নারী শিক্ষককে উপস্থিত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসে মেয়েকে আবার মাদ্রাসায় পাঠান তিনি। কিন্তু সেদিনও অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাশ নেন এবং শিশুটির কাছে বাসার ঠিকানা জানতে চান বলে অভিযোগ করেন মালিহা। তার দাবি, সেদিন বাড়ি ফেরার পর ওই শিক্ষক তাদের বাসায় গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেন এবং কথা বলতে চান। পরে তিনি বিষয়টি স্বামীকে জানান।

গত বুধবার শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জন মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষককে মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্য শিক্ষক, শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর করে ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন অধ্যক্ষ। এসব ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

তবে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ সৃষ্টি করা তার উদ্দেশ্য ছিল না। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তাও দাবি করেছেন তিনি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

মাদ্রাসায় মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, জানালেন রুমির স্ত্রী

মাদ্রাসায় মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল, জানালেন রুমির স্ত্রী

‘মেয়েকে রক্ষায় বিচারের অপেক্ষা না করেই থাপ্পড়-লাথি মারতে পারেন বাবা’

‘মেয়েকে রক্ষায় বিচারের অপেক্ষা না করেই থাপ্পড়-লাথি মারতে পারেন বাবা’

‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পালটাপালটি অভিযোগ

‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পালটাপালটি অভিযোগ

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধ

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, একই পরিবারের ৩ জন দগ্ধ

চুরির অপবাদে শিশুকে নির্যাতন, কীটনাশক পান করে হাসপাতালে

চুরির অপবাদে শিশুকে নির্যাতন, কীটনাশক পান করে হাসপাতালে

টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ প্রাণ গেল ৪ শিশুর

টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ প্রাণ গেল ৪ শিশুর

আরও পড়ুন

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে তারেক রহমানের উদ্দেশে চিঠিতে যা লেখা

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে তারেক রহমানের উদ্দেশে চিঠিতে যা লেখা

যশোরে মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ

যশোরে মাদ্রাসা পরিচালকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও রহস্যময় চিঠি

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৮৮ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও রহস্যময় চিঠি

টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ, মাদ্রাসায় ভাঙচুর-লুটের পালটা অভিযোগ

টঙ্গীতে শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ, মাদ্রাসায় ভাঙচুর-লুটের পালটা অভিযোগ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম