যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশ
রংপুরে মাউশির সহকারী পরিচালক সাদাকাত ওএসডি
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
সাদাকাত হোসেন
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) সাদাকাত হোসেনকে ‘বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ (ওএসডি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
সোমবার এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
যুগান্তরে রংপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর অফিসের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে খবর প্রকাশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ আদেশ জারি হলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে ১৯ অক্টোবর সোমবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ঢাকায় বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি নিজ বেতন ও বেতনক্রমে এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
যুগান্তরে গত ২২ আগস্ট ‘রংপুর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস/ঘুস-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য অনিয়মের মহোৎসব’ শীর্ষক খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রংপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর অফিসে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালকের কার্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য ও দুর্নীতির প্রমাণ পায় দুদক রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় রংপুরের সহকারী পরিচালক একেএম নুরে আলম সিদ্দিকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। তারা যেসব ফাইল জব্দ করেন, তাতে দেখা যায় অপকর্মের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা রংপুর অঞ্চলের সাবেক পরিচালক আমীর আলী শুধু জড়িত নন, বর্তমান সহকারী পরিচালক মো. সাদাকাত হোসেনও জড়িত রয়েছেন। তারা অর্থের বিনিময়ে নানা অসংগতি থাকার পরও বিভিন্ন কলেজকে এমপিওভুক্ত করেছেন এবং শিক্ষকদের বেতন বিলের নথিপত্র তৈরি করে দিয়েছেন।
অভিযানের সময় দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক একেএম নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, অভিযান চলাকালে যেসব নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে এর মধ্যে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হাবিবুর রহমান এবং জলঢাকা মীলগঞ্জহাট ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ফৌজিয়া আক্তারের অনিয়মের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া গেছে। দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথিপত্র তলব করা হয়েছে।
সাদাকাত হোসেন দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং রংপুর অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (কলেজ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আগামী ২৮ অক্টোবর তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্ণে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। এছাড়া আবশ্যিকভাবে নিজ পিডিএসে লগইন করে অবমুক্ত ও যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এএসএম শাহরিয়ার জাহান।
