স্ত্রী-কন্যাকে হত্যার ঘটনায় রউফ সরদারের মৃত্যুদণ্ড
Advertisement
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাতক্ষীরায় স্ত্রী সাবিনা ইসলাম ও শিশুকন্যা আয়েশা সিদ্দিকাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শেখ আলমগীর আশরাফ শুনানিতে অংশ নেন।
আইনজীবীদের ভাষ্য, মামলার আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে।
নিহত সাবিনা ইসলাম (২৬) ও তার শিশুকন্যা আয়েশা সিদ্দিকার পরিবারের পক্ষে মামলাটির বাদী ছিলেন সাবিনার মা জাহানারা খাতুন (৫৬)। তিনি উপজেলার তারালি সরদারপাড়ার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রউফের সঙ্গে সাবিনার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, আব্দুর রউফ তার মায়ের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। দাবি পূরণ করতে না পারায় সাবিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে সাবিনা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে বাড়ির বাইরে সাইকেলের শব্দ শুনে ঘুম ভাঙে জাহানারা খাতুনের। সন্দেহ হওয়ায় তিনি ঘরের ভেতরে গিয়ে খাটের ওপর মেয়ে সাবিনা ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকাকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত মা-মেয়েকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
মামলার বিচার চলাকালে চিকিৎসক, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষ্য দেন। এ ছাড়া আদালতে আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও উপস্থাপন করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে আব্দুর রউফ পলাতক রয়েছেন।
যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে মা ও শিশুকন্যা হত্যার এ মামলার রায়ে দীর্ঘদিন পর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
