মেরিন ড্রাইভে উচ্ছেদ শুরু, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চারতলা রিসোর্ট
Advertisement
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
ইনানী সৈকত এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবৈধ হোটেল-রিসোর্ট উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও প্রশাসন। অভিযানের প্রথম দিনেই উখিয়ার ইনানীতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে চারতলা একটি রিসোর্ট ভবন। ভবনটি নির্মাণে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিক।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ইনানী সৈকত এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।
সকাল ১১টার দিকে ভবনটির সামনে খননযন্ত্র আনা হয়। পরে ভবনের নিচতলা ও দুই পাশে থাকা ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়। এরপর চারতলা ভবনটির কাচ ভেঙে পিলার গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। ভবনটি মেরিন ড্রাইভের ইনানী নৌবাহিনীর জেটির পূর্ব পাশে রয়েল টিউলিপ ও বে ওয়াচ হোটেলের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত।
কউকের কর্মকর্তারা জানান, ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিককে চারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
ভবনটির মালিক শহিদুল হক বলেন, ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে তিনি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু করি। প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটির নিচতলায় দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং ওপরের দুই তলায় পর্যটকদের থাকার কক্ষ রাখা হয়েছিল। কিছুদিনের মধ্যেই এটি চালু করার পরিকল্পনা ছিল। নোটিশের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি ভবন নির্মাণের কাগজপত্রও জমা দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৭০০টি ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অথচ ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকলেও সেখানে প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে দুই শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। কয়েকটি তারকা মানের প্রতিষ্ঠান ছাড়া বেশির ভাগের বৈধ অনুমোদন নেই।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) সমুদ্রসৈকতের ৫০০ গজের মধ্যে এবং শহর এলাকায় পৌরসভার ৩০০ গজের মধ্যে রিসোর্ট, কটেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ। এ কারণে মেরিন ড্রাইভের শতাধিক রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ কউকের অনুমোদন পায়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের কিছু কাগজপত্র থাকলেও সব অনুমোদন নেই, সেগুলোর অনুমোদনপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ব্যবসায়ীরা ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, মেরিন ড্রাইভে অনেক রিসোর্ট ও কটেজ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। অবৈধ হোটেল-রিসোর্টের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে তারাও। টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা জানান, পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন এলাকায় রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার অভিযোগে সম্প্রতি ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্তোরাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জবাব না দেওয়ায় ১৪টি রিসোর্টকে জরিমানা করা হয়েছে এবং দুটি রিসোর্টের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, আমাদের সমিতিতে ১৮৭ জন সদস্য রয়েছেন। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ হোটেল-গেস্টহাউসের অনুমোদন রয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাগজপত্র সম্পর্কে আমার জানা নেই।

