অগ্নিকাণ্ড ঘিরে কক্সবাজারে ৫০০ রিসোর্ট-রেস্তোরাঁয় উচ্ছেদ আতঙ্ক
Advertisement
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অগ্নিকাণ্ডের পর মেরিন ড্রাইভের রিসোর্ট-রেস্তোরাঁ ঘিরে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে উচ্ছেদ নয়- নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ব্যবসা চালানোর সুযোগ চান মালিকরা। তাদের দাবি, মেরিন ড্রাইভের প্রায় ৫০০ রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে আছে পাঁচ হাজার মানুষের জীবিকা। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে বিপাকে পড়বেন কর্মচারী থেকে শুরু করে স্থানীয় সরবরাহকারী ও পরিবহণ শ্রমিকরাও।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানায় মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সমন্বয়ক মো. সাদেক রুবেল লিখিত বক্তব্যে বলেন, পর্যটন ব্যবসায় কোনো সংকট তৈরি হলে শুধু মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন না। বাবুর্চি, ওয়েটার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ভ্যানচালক ও বাজারের পণ্য সরবরাহকারীদের আয়ও কমে যায়। এসব মানুষের সংসার চলে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসার ওপর নির্ভর করে।
তিনি বলেন, সরকার নতুন কোনো নিয়ম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা বিধিনিষেধ চালুর আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করা প্রয়োজন। পর্যটন খাতের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের জীবিকাও রক্ষা পায়।
সংবাদ সম্মেলনে পর্যটন খাতে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের সঠিক তথ্যভান্ডার তৈরির দাবি জানানো হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, সরকারি জরিপের মাধ্যমে কর্মীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হলে কোনো সংকট বা দুর্যোগে তাদের সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা সহজ হবে।
সম্প্রতি পর্যটনকেন্দ্রিক স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিটি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এজন্য ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানের মালিক, ব্যবস্থাপক ও কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।
লিখিত বক্তব্যে সাদেক রুবেল বলেন, আগুন লাগলে কিভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কিভাবে অতিথিদের নিরাপদে বের করে আনতে হবে এবং আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে, তা হাতে-কলমে শেখানো প্রয়োজন। টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁয় কার্যকর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন ও সমন্বয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য, কোনো প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে তা চিহ্নিত করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে।
মেরিন ড্রাইভের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত উল্লেখ করে তারা বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান রক্ষা, দুটিকেই গুরুত্ব দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন- মেরিন ড্রাইভ রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির নেতা জয়নাল আবেদীন জুয়েল, মো. খুরশেদ আলম, আবু আমির ও জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
