আকাশে ফানুস, বাঁকখালীর জলে ভাসল কল্প জাহাজ
Advertisement
রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
বাঁকখালীর জলে ভাসল কল্প জাহাজ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আকাশজুড়ে রঙিন ফানুসের আলো, বাঁকখালী নদীতে ভাসছে বর্ণিল কাগজের কল্প জাহাজ। বাদ্যবাজনার তালে তালে তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাস আর উৎসবমুখর মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের রামু।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত কল্প জাহাজভাসা উৎসবে মিলেছে ধর্মীয় ঐতিহ্য, আনন্দ আর সম্প্রীতির অনন্য আবহ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে রামুর বাঁকখালী নদীর চরে আয়োজিত এ উৎসবে নানা বয়সি মানুষের ঢল নামে। নদীর জলে ভেসে বেড়ানো রংবেরঙের কল্প জাহাজ আর উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয় বর্ণিল পরিবেশ।
শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষই নন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষও এ উৎসবে অংশ নেন। এর আগে রোববার সন্ধ্যা থেকে রামুর আকাশে উড়তে দেখা যায় শত শত দৃষ্টিনন্দন ফানুস।
উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাহাজভাসা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিপ্লব বড়ুয়া। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সুকোমল বড়ুয়া। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
জাহাজভাসা উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক অর্পণ বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক দয়াল বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান ও রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক। এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জাহাজভাসা উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক অর্পণ বড়ুয়া জানান, বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুসারে, প্রবারণা পূর্ণিমার সঙ্গে মহামতি গৌতম বুদ্ধের বৈশালী থেকে রাজগৃহে প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ যাত্রাপথে মানুষ, দেবতা ও নাগেরা বুদ্ধকে পূজা করেছিলেন। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই রামুতে কল্প জাহাজভাসা উৎসবের আয়োজন করা হয়।
স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক শতাব্দী ধরে রামুতে এ উৎসব উদযাপিত হয়ে আসছে। সময়ের পরিক্রমায় এটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মিলনমেলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
