আলোচিত রুমির অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য, বাসায় তালা
Advertisement
টঙ্গী পূর্ব (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
শাহজালাল রুমি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় আসা শাহজালাল রুমির অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন রহস্য। টঙ্গীর আউচপাড়ায় তার পরিবারের ব্যবহৃত ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে।
বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক ও শ্বশুরের বক্তব্যেও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন একাডেমি রোডের ১৩০ নম্বর বাড়ির ৭৪/১ হোল্ডিংয়ের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, সেটি তালাবদ্ধ।
বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার গত শুক্রবার থেকেই বাসায় নেই। তারা ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। শাহজালাল রুমি মাঝেমধ্যে সেখানে আসতেন। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন বলে তত্ত্বাবধায়ক জানান। তবে রুমি এখন কোথায় আছেন, তা তার জানা নেই।
এ বিষয়ে শাহজালাল রুমির শ্বশুর মোকারম আলী মোবাইল ফোনে বলেন, রুমি দেশে আছেন, নাকি বিদেশে—তা তিনি জানেন না। তারাও বর্তমানে আগের বাসা ছেড়ে অন্যত্র রয়েছেন।
কেউ কেউ বলছেন, তিনি দেশে নেই, দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।
তবে এক প্রশ্নের জবাবে গত সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তায় শাহজালাল রুমি সাংবাদিকদের জানান, ‘ভাই আমি এই দেশেই আর নাই, সুতরাং আমি এগুলো নিয়ে আর ভাবছি না; যা হয় হোক। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।’
এ ব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, শাহজালাল রুমি দেশে না বিদেশে আছেন আমার জানা নেই। তবে তার বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে মেয়েটিকে ওই শিক্ষক চুমু দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাচ্ছি না।
উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার সাত বছরের এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন। এরপর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে দায়ের করা পালটা মামলায় রুমির বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। এরপর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
