তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন
গাজীপুর, বরিশাল ও রংপুরের সাবেক মেয়রদের শত শত কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে গাজীপুর, বরিশাল ও রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে।
এর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য এবং বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগসহ স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ৭৫০০ কোটি টাকার অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ও সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সম্পদসংক্রান্ত ৬৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার অনিয়মের বিষয়ও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে জাহাঙ্গীর আলম ও গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট মামলা করে দুদক।
মামলার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া দরপত্র, বিল প্রস্তুত, কর্মী নিয়োগ, অনুদান, ইজারা ও অন্যান্য খাতে অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়।
সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ
বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগও তদন্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের তদন্ত কমিটি সাবেক মেয়রদের আমলে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম, অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পর্যালোচনা করেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনেও অনিয়মের তথ্য
রংপুর সিটি করপোরেশনের ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নৌকা বা নৌকাঘাট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় এসেছে।
এ ছাড়া রংপুর সিটি করপোরেশনে অর্থবছর শেষে প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের বিষয়টি আর্থিক অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি। এ খাতে ২০ কোটি ৫ লাখ টাকা স্থানান্তরের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনে ভাড়া ও রাজস্ব আদায়েও অনিয়ম
তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বাজার, মার্কেট ও স্থাপনার ভাড়া আদায় নিয়ে বড় অঙ্কের অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মার্কেট বা স্থাপনার ভাড়া আদায়সংক্রান্ত ঘটনায় ১৮৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায় না করার ঘটনায় ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং কমিউনিটি সেন্টার ও মার্কেটের দোকানভাড়া আদায় না করার ঘটনায় ৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার অনিয়মের তথ্য রয়েছে প্রতিবেদনে।
নির্মাণকাজের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর, রংপুর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের নির্মাণকাজে নির্মাণসামগ্রী পরীক্ষা না করেই ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল পরিশোধের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
২৭ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য
স্থানীয় সরকার বিভাগের সামগ্রিক তদন্তে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৭ বছরে ৬৬টি খাতে মোট ২৭ হাজার ৮৫৯ কোটি টাকার অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, ভ্যাট-কর সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া, নির্মাণকাজের মান যাচাই ছাড়াই বিল পরিশোধ, নিয়োগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় এতে স্থান পেয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে অধিকতর নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য প্রতিবেদনটি দুদকে পাঠানো হয়। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।
