খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ ও সংগ্রহের রেকর্ডে অসংগতি সৃষ্টি করে ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই গুদামে রেকর্ডবহির্ভূত ১১৯ মেট্রিক টন চালের মজুদের তথ্যও পেয়েছে সংস্থাটি। ওই চালের বাজারমূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
মামলার আসামিরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শরীফ আহমেদ, সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হালিমুর রহমান এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হামিদুল হক।
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ ও সংগ্রহসংক্রান্ত রেকর্ডে অসংগতি সৃষ্টি করে তা ব্যবহার করে ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকার খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া শরীফ আহমেদের দায়িত্বকালে বৈধ রেকর্ড ছাড়াই ১১৯ মেট্রিক টন চাল মজুদের তথ্য পাওয়া যায়।
দুদকের কুড়িগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট টিম গত ১১ জানুয়ারি সদর খাদ্য গুদামে অভিযান চালায়। শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ ব্লকের গুদাম পরিদর্শন করে নথিভুক্ত মজুদ ও বাস্তব মজুদের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া যায়।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্লকের বিভিন্ন খামালে মোট ১ হাজার ১৭৬ বস্তা চালের ঘাটতি পাওয়া যায়। এর পরিমাণ ৪২ দশমিক ২০৫ মেট্রিক টন। এসব চালের মূল্য ২৪ লাখ ৬১ হাজার টাকার বেশি।
এ ছাড়া গুদামের রেকর্ডে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭১১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের তথ্য ছিল। কিন্তু এর বড় একটি অংশের বাস্তব মজুদ বা সংগ্রহের পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি।
এজাহারে বলা হয়, রেকর্ডে উল্লেখ থাকা ধানের মধ্যে ২৪০ মেট্রিক টনের বিল পরিশোধের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৯০ মেট্রিক টন ধান গুদামে মজুদ ছিল। বাকি ৫০ মেট্রিক টন ধান ছাঁটাইয়ের জন্য মেসার্স এলাহী অটো রাইস মিলে পাঠানো হয়েছে বলে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান।
তবে তদন্ত কমিটি সরেজমিনে মিল পরিদর্শন করলে মালিক মো. মুকুল সরকার জানান, তার মিলে কোনো ধান পাঠানো হয়নি। ধান ছাঁটাইয়ের প্রেরণ ফরমের তারিখের সঙ্গেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্যের অসংগতি পাওয়া যায়। অনুপস্থিত ৫০ মেট্রিক টন ধানের মূল্য ১৭ লাখ টাকা।
এ ছাড়া রেকর্ডে থাকা আরও ৪৭১ মেট্রিক টন ধানের বাস্তব মজুদ বা সংগ্রহের সমর্থনে গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতি মেট্রিক টন ধানের মূল্য ৩৪ হাজার টাকা হিসাবে এর দাম ১ কোটি ৬০ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
দুদকের অভিযানে শিশু নিকেতন ব্লকের এফএস-৩ নম্বর গুদামের পশ্চিম গেটসংলগ্ন এলাকায় রেকর্ডবহির্ভূত ১১৯ মেট্রিক টন চালের একটি খামাল পাওয়া যায়। এ চালের সংগ্রহ রেজিস্টার, ওজন ও মানসংক্রান্ত সনদ, চালান এবং গুদাম লেজারসহ প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
পরে ১২ জানুয়ারি জব্দতালিকার মাধ্যমে চাল জব্দ করে জিম্মায় দেওয়া হয়। প্রতি মেট্রিক টন চালের মূল্য ৫৮ হাজার ৩১৮ টাকা ৯৮ পয়সা হিসাবে এর মোট মূল্য ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা।
দুদক বলছে, সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া রেকর্ডবহির্ভূত চাল মজুদের ঘটনায় শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(খ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

