তিন নারীকে মারধরের অভিযোগ, পরে স্থানীয়দের সঙ্গে যুবদল নেতার সংঘর্ষে আহত ১২
Advertisement
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের পটিয়ায় চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক কিশোরীসহ তিন নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আবু বক্কর ওরফে সুজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার জেরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সুজন ও তার সমর্থকদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে যুবদল নেতা সুজনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পটিয়া উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকায় দুই দফা এবং পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে আরেক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সুজন (৪২), মো. টিপু (৩২), জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), আরফান (২৩), আজাদ হোসেন (২৬), রায়হান (৩২), সানজিদুল আলম শুভ (২১), কামাল উদ্দিন (২২), মাশরাফি (২০), বোরহান (২০), আমজাদ (৩৬) ও শরীফুল (৩২)। তাদের মধ্যে সুজন, আজাদ, জাহাঙ্গীর ও টিপুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত নারী রেখা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, হাবিলাসদ্বীপের শফিক চেয়ারম্যানের অনুসারী যুবদল নেতা সুজন মেম্বার ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে মোটরসাইকেলে আমাদের বাড়িতে আসেন। তারা আমার ছেলে শাওনকে খুঁজতে থাকেন। শাওনকে না পেয়ে আমার মেয়েকে ধাক্কা দেওয়া হয়। এতে আগুনে তার পা পুড়ে যায। এ সময় আমাকে এবং আমার জা বিবি জয়নাব বেগমকেও মারধর করা হয়।
রেখা আক্তারের অভিযোগ, পরে সুজনের লোকজন বাদামতল এলাকায় গিয়ে আমজাদ ও তার সঙ্গীদের মারধর করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে কয়েকজনকে মারধর করেন। কিছুক্ষণ পর সুজনের পক্ষের লোকজন আরও লোকজন নিয়ে এসে পালটা হামলা চালান। এতে আমজাদ পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
আহত আমজাদ বলেন, সুজন মেম্বার ও তার লোকজন বাড়িঘরে হামলা এবং নারীদের মারধর করে চলে যাওয়ার সময় তাদের রাস্তায় দেখতে পান। তারা মনে করেছিলেন, আমজাদ ও তার সঙ্গীরা তাদের বিরোধী পক্ষের লোক। এ কারণে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে মারধর ও ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে তার পক্ষের বোরহান, শুভ, শফি, রায়হান, আরফানসহ কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিন দিন আগে পটিয়ার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের বাদামতল এলাকায় নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইরফান নামের এক কিশোরকে সন্দেহ করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও জেলা যুবদল নেতা সুজন ওই কিশোরকে ডেকে এনে চুল কেটে দেন এবং তার মা ও বোনকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জেরেই তিন নারীকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলেও মনসা বাদামতল এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরেই দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা আবু বক্কর সুজনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
শফিক চেয়ারম্যান জানান, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক বলেন, চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

-6ae5f364da082.jpg)