আদালতের আদেশ লঙ্ঘন, চার পুকুর থেকে মাছ তুলে নিলেন ইউএনও
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে রোববার গোদাগাড়ীর ৪টি ইজারাকৃত পুকুর থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ তুলে নিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আক্তার।
ইজারা গ্রহীতাদের দাবি তারাই বৈধ ইজারাদার। হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
এরপরও ইউএনও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের চাষ করা মাছ লুট করলেন।
অভিযোগে জানা গেছে, গোদাগাড়ীর মোহনপুর ও পাকড়ি এলাকার ৫টি খাস পুকুরের ইজারা পায় সুলতানগঞ্জ সমম্বিত মৎস্যজীবী সমিতি ও সূর্যমুখী মৎস্য চাষি সমবায় সমিতি। তারা কয়েক বছর ধরে মাছ চাষ করছে।
সম্প্রতি এ সব পুকুর অন্যদের ইজারা দিতে ইউএনও নোটিশ জারি করেন। এরপর সমিতির মৎস্যজীবীরা উচ্চ আদালতে রিট করেন। গত ২৩ অক্টোবর বিচারপতি শেখ আরিফ হাসান ও বিচারপতি মাহমুদ হাসান তালুকদারের বেঞ্চ ইউএনওর নোটিশ স্থগিত করেন এবং দুই সমিতির অনুকূলে বাংলা ১৪২৭ সাল (২০২০) পর্যন্ত ইজারা বহাল রাখার আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগে জানা গেছে, রোববার সকালে গোদাগাড়ীর ইউএনও নিজেই হাজির হন সুলতান সমিতির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সূর্যমুখী সমিতির সভাপতি রমজানের বাড়িতে। তাদের দু'জনকে তুলে আনেন ইউএনও অফিসে। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে রিট প্রত্যাহার করবেন মর্মে লিখিত নেয়া হয়। লিখিত না দিলে জেলে যেতে হবে বলে ইউএনও হুমকি দেন।
এদিকে এরপরই ইউএনও ও এসি ল্যান্ড একদল জেলেকে ভাড়া করে সঙ্গে ট্রাক নিয়ে নিজেরাই পুকুরে যান এবং উপস্থিত থেকে পরপর চারটি পুকুর থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ তুলে নেন। এ সব মাছের কিছু অংশ ভাড়া করা লোকদের দিয়ে বাকি মাছ বিক্রি করেন।
দুই মৎস্যজীবী সমিতির আইনজীবী সাথিকা হোসাইন বলেন, ইউএনও উচ্চ আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন। তার বিরুদ্ধে কনডেমপ্ট অব কোর্টের আর্জি পেশ করা হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আক্তার রোববার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, এ সব পুকুর নিয়ে উচ্চ আদালতের দেয়া মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই খাস কালেকশনের জন্য পুকুরগুলোতে মাছ ধরা হয়েছে। সর্বশেষ কোনো আদেশ থাকলে সেটা আমাদের দেখানো হয়নি।
মাছ বিক্রির টাকা সরকারি তহবিলে জমা হবে বলে জানান তিনি।
