কুমারখালীতে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার
jugantor
কুমারখালীতে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

  কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৭:৫০:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

কুমারখালী

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ৮নং যদুবয়রা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পশুহাট ও পার্শ্ববর্তী প্রায় ৪০-৪৫ বিঘা ধানিজমি এবং ৩নং ওয়ার্ড জোতমোড়া ও ৫নং ওয়ার্ড দক্ষিণ যদুবয়রা গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার বৃষ্টির পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সরেজমিন জানা যায়, যদুবয়রা পশুহাট সংলগ্ন লালনবাজার থেকে পান্টি পর্যন্ত গ্রামীণ সড়কের পাশ দিয়ে ছিল পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি খাল। ওই খাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পাশের বিলে প্রবাহিত হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত খাল সংস্কার না করা এবং খালদখল করে স্থানীয়দের অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি নির্মাণ করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


এ বিষয়ে জোতমোড়া গ্রামের দিনমজুর মনছের শেখের স্ত্রী খাদিজা খাতুন বলেন, ঘরের মধ্যে বৃষ্টিতে জমা হাঁটু পানি। রান্নার চুলা জ্বলে না। বাড়ির বাইরে যাওয়া আসা করা যায় না। সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে ঘুম হয় না। পানির মধ্যে খুব কষ্টে জীবন কাটাচ্ছি। একই গ্রামের নুরুল আলম বলেন, আমি একজন অটো ভ্যানচালক। বাড়িতে হাঁটু পানি হওয়ায় ভ্যান আনানেয়া করা যায় না। বছরের ৩ থেকে ৪ মাস এমন কষ্ট। দক্ষিণ যদুবয়রা গ্রামের আক্তার বলেন, পানি বের হওয়ার রাস্তায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় আমাদের এমন ভোগান্তি। ঘরে বাইরে সব জায়গায় পানি। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ও গরু-বাছুর নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কুমারখালী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী রিতা খাতুন বলেন, প্রতি বছরই এমন সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই জমে থাকে পানি।
এ বিষয়ে ঐহিত্যবাহী যদুবয়রা পশুহাটের ইজারাদার শাজাহান হোসেন বাবু বলেন, ত্রিশ লাখ টাকা দিয়ে হাট ডেকেছি। সেই হাটে বৃষ্টি হলেই তিন চার ফুট পানি জমে। প্রতি বছরেই তিন থেকে চার মাস এমন বৃষ্টির পানি জমে থাকে হাটে। সেই সময় হাট চালাতে অন্য জমি ভাড়া নেয়া হয়। এতে প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা খরচ গুনতে হয়।


কৃষক শাজাহান আলী খান বলেন, আমার দুই বিঘাসহ এখানে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বিঘা ধানিজমি রয়েছে। আমন বোরো সব ধানই এখানে চাষ করা হয়। কিন্তু বৃষ্টির পানি বের হওয়ার রাস্তা না থাকায় মাজা সমান পানি জমে প্রতি বছরই ফসলের ক্ষতি হয়।
এ বিষয়ে যদুবয়রা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শরিফুল আলম বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যপরিকল্পনা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, যদুবয়বা পশুহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

কুমারখালীতে পানিবন্দি শতাধিক পরিবার

 কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কুমারখালী
শতাধিক পরিবার বৃষ্টির পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ৮নং যদুবয়রা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী পশুহাট ও পার্শ্ববর্তী প্রায় ৪০-৪৫ বিঘা ধানিজমি এবং ৩নং ওয়ার্ড জোতমোড়া ও ৫নং ওয়ার্ড দক্ষিণ যদুবয়রা গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার বৃষ্টির পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

সরেজমিন জানা যায়, যদুবয়রা পশুহাট সংলগ্ন  লালনবাজার থেকে পান্টি পর্যন্ত গ্রামীণ সড়কের পাশ দিয়ে ছিল পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি খাল। ওই খাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পাশের বিলে প্রবাহিত হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত খাল সংস্কার না করা এবং খালদখল করে স্থানীয়দের অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি নির্মাণ করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 


এ বিষয়ে জোতমোড়া গ্রামের দিনমজুর মনছের শেখের স্ত্রী খাদিজা খাতুন বলেন, ঘরের মধ্যে বৃষ্টিতে জমা হাঁটু পানি। রান্নার চুলা জ্বলে না। বাড়ির বাইরে যাওয়া আসা করা যায় না। সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে ঘুম হয় না। পানির মধ্যে খুব কষ্টে জীবন কাটাচ্ছি। একই গ্রামের নুরুল আলম বলেন, আমি একজন অটো ভ্যানচালক। বাড়িতে হাঁটু পানি হওয়ায় ভ্যান আনানেয়া করা যায় না। বছরের ৩ থেকে ৪ মাস এমন কষ্ট। দক্ষিণ যদুবয়রা গ্রামের আক্তার বলেন, পানি বের হওয়ার রাস্তায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করায় আমাদের এমন ভোগান্তি। ঘরে বাইরে সব জায়গায় পানি। ছোট ছোট ছেলেমেয়ে ও গরু-বাছুর নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কুমারখালী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী রিতা খাতুন বলেন, প্রতি বছরই এমন সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই জমে থাকে পানি।
এ বিষয়ে ঐহিত্যবাহী যদুবয়রা পশুহাটের ইজারাদার শাজাহান হোসেন বাবু বলেন, ত্রিশ লাখ টাকা দিয়ে হাট ডেকেছি। সেই হাটে বৃষ্টি হলেই তিন চার ফুট পানি জমে। প্রতি বছরেই তিন থেকে চার মাস এমন বৃষ্টির পানি জমে থাকে হাটে। সেই সময় হাট চালাতে অন্য জমি ভাড়া নেয়া হয়। এতে প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা খরচ গুনতে হয়।


কৃষক শাজাহান আলী খান বলেন, আমার দুই বিঘাসহ এখানে জলাবদ্ধতায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বিঘা ধানিজমি রয়েছে। আমন বোরো সব ধানই এখানে চাষ করা হয়। কিন্তু বৃষ্টির পানি বের হওয়ার রাস্তা না থাকায় মাজা সমান পানি জমে প্রতি বছরই ফসলের ক্ষতি হয়।
এ বিষয়ে যদুবয়রা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শরিফুল আলম বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যপরিকল্পনা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, যদুবয়বা পশুহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন