হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা শুরু করবেন কোন বয়সে, জানুন সঠিক সময়
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অনেকেই মনে করেন হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজন হয় শেষ বয়সে গিয়ে। বিশের কোঠায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা বলতে সাধারণত ওজন, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং ভিটামিনের ঘাটতি পরীক্ষা করাকেই বোঝায়। এ বয়সেও যে হৃদযন্ত্রের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে তা বেশিরভাগ মানুষই বোঝেন না।
তবে ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নরেশ ত্রেহান মনে করেন, এই ধারণা বদলানো প্রয়োজন। বিশেষ করে যাদের পরিবারের হৃদরোগ বা ডায়বেটিসের ইতিহাস রয়েছে।
হৃদরোগ সবসময় আগাম সংকেত দেয় না
হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরির পেছনে থাকা কিছু কারণ বছরের পর বছর নীরবে শরীরে বিকশিত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি অস্বাভাবিক কিছু বুঝতে পারার আগেই এসব ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ডা. ত্রেহানের মতে, হৃদরোগের পেছনে একটি কারণ নয়, একাধিক কারণ থাকতে পারে।
বিশ্ব হার্ট দিবসের আগে ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নরেশ ত্রেহান বলেছেন, হৃদরোগের ঝুঁকি বোঝার জন্য মানুষকে খুব বেশি বয়স হওয়া বা উপসর্গ দেখা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে পরিবারে হৃদ্রোগ বা ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ২৫ বছর বয়সের মধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত বলে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। আর সাধারণভাবে প্রত্যেকেরই প্রায় ৩০ বছর বয়সের মধ্যে পূর্ণ স্বাস্থ্য মূল্যায়ন করা উচিত বলে তার বক্তব্য।
কেন এত তাড়াতাড়ি পরীক্ষা?
হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক সময় বছরের পর বছর নীরবে তৈরি হতে পারে। কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকলেও ডায়াবেটিস, স্থূলতা, অস্বাস্থকর খাদ্যাভ্যাস, তামাক ব্যবহার, মানসিক চাপ এবং পারিবারিক ইতিহাস ভবিষ্যতে হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ডা. ত্রেহানের মতে, পরিবারে হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস থাকলে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে শরীরের একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন করা যেতে পারে। তিনি উদাহরণ হিসেবে ট্রেডমিল টেস্ট, ইকোকার্ডিওগ্রাম এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের অংশ হিসেবে অ্যাবডোমিনাল আল্ট্রাসাউন্ডের কথা বলেছেন। তবে সবার জন্য একই পরীক্ষা প্রয়োজন নয়। বয়স, উপসর্গ, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকির ওপর পরীক্ষা নির্ভর করে।
পারিবারিক ইতিহাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পরিবারে হৃদরোগ থাকলে একজন তরুণের ঝুঁকি শুধু তার বর্তমান বয়স দেখে বোঝা যায় না। চিকিৎসকেরা রক্তের বিভিন্ন সূচক, শরীরের গঠন, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি এবং কিছু জেনেটিক বিষয়ও বিবেচনা করতে পারেন। জেনেটিক পরীক্ষার অগ্রগতিও ভবিষ্যতে বংশগত ঝুঁকি শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ
ডা. ত্রেহান জোর দিয়েছেন যে হৃদস্বাস্থ্যের বিষয়টি শুধু পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


