Logo
Logo
×

Advertisement

ডাক্তার আছেন

স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো: ক্র্যাশ ডায়েট নয়, মেনে চলুন পুষ্টিবিদদের এই ৮ পরামর্শ

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো: ক্র্যাশ ডায়েট নয়, মেনে চলুন পুষ্টিবিদদের এই ৮ পরামর্শ

ছবি: SPED-এর পুষ্টিবিদ দল

Advertisement

শহুরে যান্ত্রিকতায় আটকে থাকা ঢাকার নগরবাসীদের মাঝে ওজন বৃদ্ধির সমস্যাটি এখন খুবই সাধারণ একটি চিত্র। ব্যস্ত রুটিন, ডেস্কে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ফাস্টফুড বা অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং কাজের অতিরিক্ত চাপ—সব মিলিয়ে শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো এখন শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, বরং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম শর্ত।

অতিরিক্ত ওজন কেন নীরব ঘাতক

ওজন বাড়ার এই সমস্যাটিকে অনেকেই কেবল বাহ্যিক রূপ বা ফিটনেসের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, যা মোটেও ঠিক নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, শরীরের অতিরিক্ত ওজন নীরব ঘাতকের মতো কাজ করে এবং জন্ম দেয় নানামুখী জটিল রোগের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

• রক্তে শর্করা ও রক্তচাপের অনিয়ম: ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

• হরমোনজনিত জটিলতা: নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) এবং থাইরয়েডের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

• লিভার ও বিপাকীয় সমস্যা: ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এবং হজম শক্তির অবনতি ঘটে।

• শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস: জয়েন্টে তীব্র ব্যথা এবং হৃদরোগের আশঙ্কা তৈরি হয়।

রাতারাতি স্লিম হওয়ার শর্টকাট কেন বিপজ্জনক

দ্রুত মেদ ঝরিয়ে ফেলার নেশায় অনেকেই ইন্টারনেটে খুঁজতে শুরু করেন—কিভাবে এক সপ্তাহেই কয়েক কেজি ঝরানো যায়, কিংবা প্রতিদিন কেজি ধরে মেদ কমানো আদৌ সম্ভব কিনা; কিন্তু জাদুকরি উপায়ে রাতারাতি স্লিম হওয়ার এই প্রবণতা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পুষ্টিবিদদের মতে, সপ্তাহে আধা কেজি থেকে এক কেজি ওজন কমানোই নিরাপদ গতি।

প্রত্যেক মানুষের শারীরিক গঠন, হরমোনের মাত্রা, বয়স, জীবনধারা এবং ওষুধের ইতিহাস সম্পূর্ণ আলাদা। কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত মূল্যায়ন ছাড়া হুট করে কোনো কড়া ডায়েট শুরু করলে সাময়িকভাবে ওজন কমলেও তা শরীরের ভেতরে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনে। এর ফলে পুষ্টির ঘাটতি, চুল পড়া, মাসিকের অনিয়ম এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যেসব নারীর PCOS বা থাইরয়েডের সমস্যা আছে, ভুল ডায়েট তাদের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নিরাপদে ওজন কমানোর ৮টি কার্যকর কৌশল

• পরিবেশগত ট্রিগার সরান: চোখের সামনে অস্বাস্থ্যকর খাবার বা স্ন্যাকস না রেখে সবসময় ফল বা স্বাস্থ্যকর খাবার দৃশ্যমান রাখুন।

• আবেগ থেকে খাওয়া বন্ধ করুন: মন খারাপ, একঘেয়েমি বা মানসিক চাপ দূর করতে খাবারকে সান্ত্বনা বা ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করুন।

• ছোট জয়ের সেলিব্রেশন: প্রতি ১ কেজি ওজন কমানো বা ছোট কোনো লক্ষ্য অর্জনে নিজেকে পুরস্কৃত করুন।

• ক্ষমাশীল মনোভাব রাখুন: ডায়েট একদিন একটু এদিক-সেদিক হয়ে গেলে নিজেকে অপরাধী না ভেবে পরের বেলা থেকেই আবার ট্র্যাকে ফিরে আসুন।

• প্রোটিন ও ফাইবারকে অগ্রাধিকার দিন: ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার রাখলে ক্ষুধা বাড়ানোর হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে।

• রঙিন ও প্রাকৃতিক খাবার বেছে নিন: প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ রঙিন শাকসবজি, ফল, বাদাম ও সীডস জাতীয় খাবার রাখুন। বাইরের জাঙ্ক ফুড জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

• খাওয়ার আগে পানি পান: খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

• পর্যাপ্ত ঘুম: দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং ওজন ঝরাতে সাহায্য করে।

প্রযুক্তি আর পুষ্টিবিদের পরামর্শ: সাফল্যের যুগলবন্দি

প্রযুক্তির ছোঁয়া এখন ওজন কমানোর প্রক্রিয়াকেও করেছে অনেক বেশি সহজ ও বিজ্ঞানসম্মত। ডিজিটাল ক্যালোরি ট্র্যাকিং অ্যাপের সাহায্যে প্রতিদিনের খাবারের হিসাব রাখা এখন হাতের মুঠোয়, যা নিজের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে দারুণ সাহায্য করে। এর পাশাপাশি পুষ্টিবিদের নিয়মিত পরামর্শ ও উৎসাহ পেলে ডায়েট চার্ট মেনে চলাও অনেক সহজ হয়ে যায়।

ঢাকায় পার্সোনালাইজড ওজন ব্যবস্থাপনা: SPED

এই আধুনিক ভাবনার আলোকেই ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসে যাত্রা শুরু করেছে SPED ওয়েট লস ক্লিনিক। প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক ও পার্সোনালাইজড বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক উপায়ে ওজন ব্যবস্থাপনার সেবা দিচ্ছে। এখানকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—আপনার পছন্দের খাবার বাদ না দিয়েই, ডায়েট চার্টে সেগুলোকে রেখেই ওজন কমানোর চমৎকার সুযোগ রয়েছে। SPED-এর লক্ষ্যমাত্রাগুলো বেশ বাস্তবসম্মত ও স্বাস্থ্যকর:

• ২ মাসে ৫ কেজি ওজন কমানো।

• ৪ মাসে ১০ কেজি পর্যন্ত মেদ ঝরানো।

• ৬ মাসে ১৫ কেজি পর্যন্ত ওজন কমিয়ে ফিট থাকা।

অর্থাৎ মাসে গড়ে আড়াই কেজির মতো, যা পুষ্টিবিজ্ঞানের নিরাপদ সীমার মধ্যেই পড়ে। পুরো প্রক্রিয়াটি ক্র্যাশ ডায়েট বা ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধনির্ভর নয়, তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও কম। এখানে সার্টিফায়েড ডায়েটিশিয়ানরা প্রতিটি ক্লায়েন্টের শারীরিক গঠন ও স্বাস্থ্যগত ইতিহাস গভীরভাবে মূল্যায়ন করে তবেই পরিকল্পনা সাজান। তাদের এই কার্যকর ওজন নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রামে আরও যা থাকছে:

• নিয়মিত ফলো-আপ ও পরামর্শ সেশন।

• সহজ ক্যালোরি ট্র্যাকিং অ্যাপের ব্যবহার।

• হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মোটিভেশনাল সাপোর্ট।

• প্রয়োজন সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ সাপ্লিমেন্টের নির্দেশনা।

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দুই হাজারের বেশি ক্লায়েন্টকে সেবা দিয়েছে। গুগলে ১০০টির বেশি রিভিউতে ৪.৯ স্টার রেটিং এবং ফেসবুকে এক লাখের বেশি ফলোয়ার তাদের প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন।

পাঠকের সাধারণ জিজ্ঞাসা

সপ্তাহে কতটুকু ওজন কমানো নিরাপদ?

সাধারণভাবে সপ্তাহে আধা কেজি থেকে এক কেজি ওজন কমানোকে নিরাপদ ধরা হয়। এর চেয়ে দ্রুত কমালে পেশিক্ষয়, পুষ্টির ঘাটতি এবং ডায়েট ছাড়ার পর ওজন আবার ফিরে আসার ঝুঁকি বাড়ে।

পছন্দের খাবার রেখেও কি ওজন কমানো যায়?

হ্যাঁ। খাবারের পরিমাণ ও ক্যালোরির হিসাব ঠিক রেখে পুষ্টিবিদ পছন্দের খাবারকেও ডায়েট চার্টে রাখতে পারেন। এতে ডায়েট দীর্ঘদিন মেনে চলা সহজ হয়।

PCOS বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে কী করবেন?

হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে নিজে নিজে ডায়েট না করে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের পরামর্শে ব্যক্তিগত পরিকল্পনা নেওয়াই নিরাপদ।

শেষ কথা

আপনার ওজন আপনার হাতে। তবে কখনই নিজে নিজে কড়া ডায়েট শুরু করবেন না, যার সাইড ইফেক্ট হতে পারে ভয়ংকর। তাই আপনার ওজন কমানোর জার্নিতে অবশ্যই একজন নিউট্রিশনিস্টের শরণাপন্ন হবেন।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক পুষ্টি পরামর্শ পেতে যোগাযোগ করুন SPED-এ।

লেখক: নিউট্রিশনিস্ট আয়শা সিদ্দিকা, নাহিদা আহমেদ ও তসিবা বিনতে রহমান তোড়া

কনসালটেন্ট, SPED

website: https://sped.center

মিরপুর ডিওএইচএস, ঢাকা

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ব্যায়াম না করেও যে কৌশলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যায়

ব্যায়াম না করেও যে কৌশলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা যায়

স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো: ক্র্যাশ ডায়েট নয়, মেনে চলুন পুষ্টিবিদদের এই ৮ পরামর্শ

স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানো: ক্র্যাশ ডায়েট নয়, মেনে চলুন পুষ্টিবিদদের এই ৮ পরামর্শ

যে কারণে ৩০ আগেই দ্বিগুণ হতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

যে কারণে ৩০ আগেই দ্বিগুণ হতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

প্রবীণদের সুস্থতায় সঠিক পুষ্টি কেন জরুরি

প্রবীণদের সুস্থতায় সঠিক পুষ্টি কেন জরুরি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম