Logo
Logo
×

Advertisement

ডাক্তার আছেন

পর্নোগ্রাফির আসক্তির ক্ষতি ও মুক্তির কার্যকরী উপায়

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম

পর্নোগ্রাফির আসক্তির ক্ষতি ও মুক্তির কার্যকরী উপায়

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

পর্নোগ্রাফি দেখা অনেকের কাছে নিছক বিনোদন বা ব্যক্তিগত অভ্যাস। কিন্তু এ অভ্যাস যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন কাজ, পড়াশোনা, মানসিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বারবার কমিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়া, মানসিক চাপ সামলাতে পর্নের ওপর নির্ভর করা কিংবা দৈনন্দিন দায়িত্ব অবহেলা করার মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে নিয়মিত পর্ন দেখলেই কেউ আসক্ত হয়ে পড়েন কিংবা এর ফলে মস্তিষ্ক ও যৌন সক্ষমতার ক্ষতি হয়— এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্ন ব্যবহারের পরিমাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এটি ব্যক্তির স্বাভাবিক জীবন ও মানসিক স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলছে।

ব্রিটিশ বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘বিবিসি সায়েন্স ফোকাস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের প্রভাব, আসক্তি নিয়ে বিতর্ক এবং এ অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উপায় তুলে ধরা হয়েছে।

কখন পর্ন দেখা সমস্যা হয়ে ওঠে

পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের কারণে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়া, বারবার চেষ্টা করেও অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা কিংবা উদ্বেগ ও একাকিত্ব সামলানোর প্রধান উপায় হিসেবে পর্নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া সমস্যাজনক ব্যবহারের লক্ষণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোর মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক জশুয়া গ্রাবসের গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা পর্ন দেখাকে নৈতিকভাবে ভুল মনে করেন, তাদের মধ্যে নিজেদের এ অভ্যাসে আসক্ত মনে করার প্রবণতা বেশি হতে পারে। পর্ন ব্যবহারের পরিমাণ কম হলেও এমন অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

গবেষকেরা এ অবস্থাকে ব্যক্তির নৈতিক বিশ্বাস ও আচরণের মধ্যে অসামঞ্জস্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। এ ধরনের দ্বন্দ্ব থেকে অপরাধবোধ ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, পর্ন ব্যবহারের কারণে বাস্তব জীবনে সমস্যা তৈরি হয় না। বরং অভ্যাসটির কারণে দৈনন্দিন কাজে ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।


কী কী ক্ষতি হতে পারে

দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত: পর্ন দেখার পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হলে কাজ, পড়াশোনা ও অন্যান্য দায়িত্ব অবহেলিত হতে পারে। বারবার দেখার তাগিদ তৈরি হলে সময় ব্যবস্থাপনাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব: কেউ কেউ উদ্বেগ, একাকিত্ব কিংবা মানসিক চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে পর্ন দেখেন। কিন্তু এতে সমস্যার মূল কারণ দূর হয় না। বরং একইভাবে বারবার মানসিক চাপ সামলানোর চেষ্টা করলে অভ্যাসটির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।

সম্পর্কে টানাপোড়েন: সঙ্গীর কাছে পর্ন দেখার বিষয়টি গোপন রাখা, এ নিয়ে মতবিরোধ কিংবা যৌন চাহিদা ও প্রত্যাশার অমিল সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে পারে। তবে পর্ন দেখলেই যৌন সক্ষমতা কমে যায় বা সম্পর্ক নষ্ট হয়— এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে গবেষণায় যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

অপরাধবোধ ও আত্মবিশ্বাসের সংকট: নিজের আচরণকে ভুল মনে করে কেউ কেউ লজ্জা, অপরাধবোধ ও আত্মঘৃণায় ভুগতে পারেন। এতে মানসিক অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মদোষারোপের পরিবর্তে অভ্যাসটির কারণ ও প্রভাব বোঝার চেষ্টা করা বেশি কার্যকর।

পর্নো-আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়

অভ্যাসের কারণ শনাক্ত করা: কোন পরিস্থিতিতে পর্ন দেখার প্রবণতা বাড়ে, তা খেয়াল করা জরুরি। একাকিত্ব, একঘেয়েমি, উদ্বেগ কিংবা মানসিক চাপের সময় এ প্রবণতা বাড়ে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করলে অভ্যাস পরিবর্তনের পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ: পর্ন দেখার পেছনে কতটা সময় ব্যয় হচ্ছে এবং এর কারণে কোন কাজগুলো ব্যাহত হচ্ছে, তা হিসাব করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে ব্যবহারের সময় কমিয়ে আনা এবং অবসর সময়ে বিকল্প কাজে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করা সহায়ক হতে পারে।

মানসিক চাপ মোকাবিলা: উদ্বেগ বা মন খারাপের সময় পর্নের ওপর নির্ভর না করে সমস্যার মূল কারণ সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং স্বাস্থ্যকর বিনোদনে যুক্ত থাকা মানসিক চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ: একবারেই অভ্যাসটি পুরোপুরি বন্ধ করার কঠোর সিদ্ধান্ত সবার জন্য কার্যকর নাও হতে পারে। নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। কোনো দিন লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে নিজেকে ব্যর্থ ভাবার পরিবর্তে কেন এমন হয়েছে, তা বোঝার চেষ্টা করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া: বারবার চেষ্টা করেও অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে কিংবা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্ট তৈরি হলে প্রশিক্ষিত মনোবিজ্ঞানী বা মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা

অল্প বয়সে পর্নোগ্রাফির সংস্পর্শে আসার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। পর্নে উপস্থাপিত যৌনতা বাস্তব সম্পর্কের নির্ভরযোগ্য প্রতিচ্ছবি নয়। শিশু-কিশোরেরা বিষয়টি বুঝতে না পারলে যৌনতা ও সম্পর্ক নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। এ কারণে বয়সোপযোগী যৌনশিক্ষা, পারস্পরিক সম্মতি, শ্রদ্ধা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্নোগ্রাফি ব্যবহার নিয়ে অযথা ভয় বা আত্মদোষারোপ না করে এর বাস্তব প্রভাব মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অভ্যাসটি যদি ব্যক্তির কাজ, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়াই হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

৩৫০০ টাকায় ‘লাইফটাইম মেম্বারশিপ’ দিতেন পর্নো ভিডিও বানানো সুমাইয়া

৩৫০০ টাকায় ‘লাইফটাইম মেম্বারশিপ’ দিতেন পর্নো ভিডিও বানানো সুমাইয়া

পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার

পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া গ্রেফতার

চাকরির নামে কম্বোডিয়ায় পাচার, পর্নোগ্রাফিতে বাধ্য করা হতো যুবকদের

চাকরির নামে কম্বোডিয়ায় পাচার, পর্নোগ্রাফিতে বাধ্য করা হতো যুবকদের

পর্নোগ্রাফি মামলায় হানি ট্র্যাপখ্যাত লাইলি কারাগারে

পর্নোগ্রাফি মামলায় হানি ট্র্যাপখ্যাত লাইলি কারাগারে

পর্নো সাইটে নিজেকে আবিষ্কার করছেন অতিথিরা

চীনের হোটেলে গোপন ক্যামেরা পর্নো সাইটে নিজেকে আবিষ্কার করছেন অতিথিরা

সেই পর্নো তারকা যুগল জবানবন্দিতে যেসব তথ্য দিলেন

সেই পর্নো তারকা যুগল জবানবন্দিতে যেসব তথ্য দিলেন

আরও পড়ুন

১০-২০ বছরের পুরোনো মাথাব্যথা যে উপায়ে সারতে পারে ২-৩ সপ্তাহে

১০-২০ বছরের পুরোনো মাথাব্যথা যে উপায়ে সারতে পারে ২-৩ সপ্তাহে

ফ্যাটি লিভার থেকে ক্যানসার, নীরবে বিপদ বাড়ায় শরীরের যে লক্ষণগুলো

ফ্যাটি লিভার থেকে ক্যানসার, নীরবে বিপদ বাড়ায় শরীরের যে লক্ষণগুলো

পুরুষ বন্ধ্যত্ব কি সত্যিই সারে? যে ৪ উপায়ের কথা বলছেন চিকিৎসকরা

পুরুষ বন্ধ্যত্ব কি সত্যিই সারে? যে ৪ উপায়ের কথা বলছেন চিকিৎসকরা

সর্দি-কাশি থেকে গাঁটে ব্যথা, কতটা উপকারী পানপাতা?

সর্দি-কাশি থেকে গাঁটে ব্যথা, কতটা উপকারী পানপাতা?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম