ট্যারা বা বাঁকা চোখ হলে কী করবেন
jugantor
ট্যারা বা বাঁকা চোখ হলে কী করবেন

  অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ  

১৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৪:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশের মানুষ দু'চোখের কোনোটি বাঁকা থাকলে (ট্যারা থাকলে) তাকে সৌভাগ্যের লক্ষণ বা লক্ষ্মী ট্যারা হিসেবে মনে করেন। এই মূল লক্ষণকে চিকিৎসা করার পরিবর্তে সৌভাগ্যের লক্ষণ হাতছাড়া করতে চান না অভিভাবকরা। অজ্ঞতার জন্য ৫ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ না নেয়ায় অনেক শিশুর একটি চোখ অন্ধ হয়ে যায়।

মনে রাখতে হবে
যখন দুই চোখ একসঙ্গে দেখতে পারে না এবং একটা চোখ আরেকটা চোখ থেকে দূরে যায় বা বেঁকে যায়, সেই চোখকে ট্যারা চোখ বলে। সব সময় বাঁকা বা কখনও কখনও বাঁকা চোখ সামজিকভাবে একজনকে হেয়প্রতিপন্ন করে, তেমনিভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার সমূহসম্ভাবনা থাকে। বিয়ে, চাকরি ও নানা কর্মক্ষেত্রে ট্যারা চোখ অনেকের কাছে পীড়াদায়ক ও অস্বস্তিকর। তবে ট্যারা চোখ লক্ষ্মী ট্যারা ভেবে চিকিৎসা না করালে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ৫ বছর বয়স থেকে চোখের পাওয়ার পরীক্ষা বা ট্যারা চোখের সহজ চিকিৎসা বাংলাদেশেই চক্ষু বিশেষজ্ঞরা করে থাকেন। তাই আর কোনো দুশ্চিন্তা নয়।

ট্যারা চোখ শারীরিক বিভিন্ন ত্রুটির মধ্যে অন্যতম একটি ত্রুটি। কোনো বস্তুকে সঠিকভাবে দেখতে হলে একটি চোখকে সমানভাবে ওই বস্তুর দিকে স্থির রাখতে হয়। কিন্তু জন্মগতকারণে চোখের মাংস দুর্বল হলে, মণি অস্বচ্ছ হলে, জন্মগত ছানি হলে, দুই চোখের দৃষ্টিশক্তির পার্থক্য হলে, গঠনগত অসামঞ্জস্য হলে, দুটি চোখ একসঙ্গে কোনো বস্তুর দিকে স্থির থাকতে পারে না। দুটি চোখের কোনোটি নাক অথবা কানের দিকে বেঁকে যায়।

ট্যারা চোখ শুধু স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করে না, সৌন্দর্যহানির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান, সরকারি চাকরি প্রাপ্তি- এসব ক্ষেত্রে হেয়প্রতিপন্ন করে। কখনও কখনও একটি বস্তু দুইটি দেখা যায়, চোখে ঝাপসা দেখা যায়, এমনকি বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ গ্রহণ না করায় চোখ অন্ধ পর্যন্ত হয়ে যায়।

চোখ ট্যারা হওয়ার কারণসমূহ
-শরীরের সর্বাধিক কর্মক্ষম চোখের মাংসপেশিতে আঘাত লাগলে চোখ খুরানারে ক্ষমতা কমে যায়।
-বংশগত কারণে চোখ ট্যারা হয়।
-রেটিনা লেন্স, কর্ণিয়া ও মণির রোগে চোখ ট্যারা হতে পারে।
-এক চোখের দৃষ্টিশক্তি আরেক চোখের দৃষ্টিশক্তি থেকে বেশি কমে গেলে চোখ ট্যারা হয় (তিন ডায়াপ্টরের বেশি)।
-চোখের মাংসে স্নায়ু থাকে যেমন- ৩, ৪, ৬নং ক্রানিয়াল নার্ভ আক্রান্ত হলেও চোখ ট্যারা হয়।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার
-পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে সব শিশুর চোখ পরীক্ষা করা দরকার।
-কখনও কারও চোখে একটির চেয়ে অন্যটি কম দেখতে পেলে অকুলোপ্লাস্টি সার্জনের পরামর্শ নেয়া উচিত।
-একটি বস্তুকে দুটি অথবা ঝাঁপসা দেখলে অকুলোপ্লাস্টি সার্জনের সাহায্য নেয়া উচিত।
-পড়াশোনা করার সময় কারও মাথা ব্যথা হলে তাদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা উচিত।
-যে কোনো বয়সের রোগীর ট্যারা চোখ থাকলে চিকিৎসার মাধ্যমে সারানো সম্ভব।
-একটি চোখ বন্ধ করে, চোখের পাওয়ার নিরূপণ করে চশমা দিয়ে চোখের ব্যায়াম করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ট্যারা চোখ সারানারে চেষ্টা করা যায়।
-অতি অল্প সময়ের মধ্যে অপারেশনের মাধ্যমে ট্যারা চোখ সম্পূর্ণ সোজা করা যায়।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ
চেয়ারম্যান কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ
সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সভাপতি ওএসবি ও সাবেক মাহসচিব বিএমএ

ট্যারা বা বাঁকা চোখ হলে কী করবেন

 অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ 
১৬ অক্টোবর ২০২০, ০৯:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশের মানুষ দু'চোখের কোনোটি বাঁকা থাকলে (ট্যারা থাকলে) তাকে সৌভাগ্যের লক্ষণ বা লক্ষ্মী ট্যারা হিসেবে মনে করেন। এই মূল লক্ষণকে চিকিৎসা করার পরিবর্তে সৌভাগ্যের লক্ষণ হাতছাড়া করতে চান না অভিভাবকরা। অজ্ঞতার জন্য ৫ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ না নেয়ায় অনেক শিশুর একটি চোখ অন্ধ হয়ে যায়।

মনে রাখতে হবে
যখন দুই চোখ একসঙ্গে দেখতে পারে না এবং একটা চোখ আরেকটা চোখ থেকে দূরে যায় বা বেঁকে যায়, সেই চোখকে ট্যারা চোখ বলে। সব সময় বাঁকা বা কখনও কখনও বাঁকা চোখ সামজিকভাবে একজনকে হেয়প্রতিপন্ন করে, তেমনিভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার সমূহসম্ভাবনা থাকে। বিয়ে, চাকরি ও নানা কর্মক্ষেত্রে ট্যারা চোখ অনেকের কাছে পীড়াদায়ক ও অস্বস্তিকর। তবে ট্যারা চোখ লক্ষ্মী ট্যারা ভেবে চিকিৎসা না করালে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ৫ বছর বয়স থেকে চোখের পাওয়ার পরীক্ষা বা ট্যারা চোখের সহজ চিকিৎসা বাংলাদেশেই চক্ষু বিশেষজ্ঞরা করে থাকেন। তাই আর কোনো দুশ্চিন্তা নয়।

ট্যারা চোখ শারীরিক বিভিন্ন ত্রুটির মধ্যে অন্যতম একটি ত্রুটি। কোনো বস্তুকে সঠিকভাবে দেখতে হলে একটি চোখকে সমানভাবে ওই বস্তুর দিকে স্থির রাখতে হয়। কিন্তু জন্মগতকারণে চোখের মাংস দুর্বল হলে, মণি অস্বচ্ছ হলে, জন্মগত ছানি হলে, দুই চোখের দৃষ্টিশক্তির পার্থক্য হলে, গঠনগত অসামঞ্জস্য হলে, দুটি চোখ একসঙ্গে কোনো বস্তুর দিকে স্থির থাকতে পারে না। দুটি চোখের কোনোটি নাক অথবা কানের দিকে বেঁকে যায়। 

ট্যারা চোখ শুধু স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করে না, সৌন্দর্যহানির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান, সরকারি চাকরি প্রাপ্তি- এসব ক্ষেত্রে হেয়প্রতিপন্ন করে। কখনও কখনও একটি বস্তু দুইটি দেখা যায়, চোখে ঝাপসা দেখা যায়, এমনকি বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ গ্রহণ না করায় চোখ অন্ধ পর্যন্ত হয়ে যায়।

চোখ ট্যারা হওয়ার কারণসমূহ
-শরীরের সর্বাধিক কর্মক্ষম চোখের মাংসপেশিতে আঘাত লাগলে চোখ খুরানারে ক্ষমতা কমে যায়।
-বংশগত কারণে চোখ ট্যারা হয়।
-রেটিনা লেন্স, কর্ণিয়া ও মণির রোগে চোখ ট্যারা হতে পারে।
-এক চোখের দৃষ্টিশক্তি আরেক চোখের দৃষ্টিশক্তি থেকে বেশি কমে গেলে চোখ ট্যারা হয় (তিন ডায়াপ্টরের বেশি)।
-চোখের মাংসে স্নায়ু থাকে যেমন- ৩, ৪, ৬নং ক্রানিয়াল নার্ভ আক্রান্ত হলেও চোখ ট্যারা হয়।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার
-পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে সব শিশুর চোখ পরীক্ষা করা দরকার।
-কখনও কারও চোখে একটির চেয়ে অন্যটি কম দেখতে পেলে অকুলোপ্লাস্টি সার্জনের পরামর্শ নেয়া উচিত।
-একটি বস্তুকে দুটি অথবা ঝাঁপসা দেখলে অকুলোপ্লাস্টি সার্জনের সাহায্য নেয়া উচিত।
-পড়াশোনা করার সময় কারও মাথা ব্যথা হলে তাদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা উচিত।
-যে কোনো বয়সের রোগীর ট্যারা চোখ থাকলে চিকিৎসার মাধ্যমে সারানো সম্ভব।
-একটি চোখ বন্ধ করে, চোখের পাওয়ার নিরূপণ করে চশমা দিয়ে চোখের ব্যায়াম করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ট্যারা চোখ সারানারে চেষ্টা করা যায়।
-অতি অল্প সময়ের মধ্যে অপারেশনের মাধ্যমে ট্যারা চোখ সম্পূর্ণ সোজা করা যায়।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ
চেয়ারম্যান কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ
সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সভাপতি ওএসবি ও সাবেক মাহসচিব বিএমএ