এফডিআই বাড়লেও কমেছে নতুন বিনিয়োগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়লেও নতুন মূলধন বিনিয়োগে গতি নেই। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই বেড়েছে ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তবে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে আগে থেকে দেশে ব্যবসা করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ থেকে।
বিপরীতে, নতুন মূলধন বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। পাশাপাশি বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহেও বড় ধস নেমেছে।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশে তিনভাবে বিদেশি বিনিয়োগ হয়।
এগুলো হলো- নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়, নিট ইকুইটি মূলধন বা নতুন বিনিয়োগ এবং নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণ।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে নিট এফডিআই এসেছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলারই এসেছে আগে থেকে বিনিয়োগ করা বিদেশি কোম্পানিগুলোর মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ থেকে। অর্থাৎ, মোট নিট এফডিআইয়ের প্রায় ৭৫ শতাংশ এসেছে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। ফলে এফডিআইয়ের প্রবৃদ্ধি হলেও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বিদেশি মূলধন আসার গতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ সময়ে নিট ইকুইটি বিনিয়োগ হয়েছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম।
অন্যদিকে বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহ ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে।
এ খাতে মোট ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের ঋণপ্রবাহ থাকলেও আগের ঋণ পরিশোধের কারণে নিট প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
এফডিআইয়ের এই পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ বলছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চাপ তৈরি করছে। এসব কারণে বিশ্বজুড়েই বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন উইং) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনো চ্যালেঞ্জিং।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগে থেকে বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগ করা আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এটি দেশের ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার প্রতি বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের আস্থার ইঙ্গিত দেয়। এ ধরনের বিনিয়োগ ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ পরিবেশের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। নাহিয়ান রহমান রচি জানান, সংস্থাটির ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে বাস্তব বিনিয়োগ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিতে কাজ চলছে। সম্প্রতি কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ঘোষণাকেও আশাব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র আরও হতাশাজনক। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে নিট এফডিআই এসেছে ৪ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ কম। যদিও আগের প্রান্তিকে এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ, আগের প্রান্তিকের তুলনায় বিনিয়োগ বাড়লেও বছরওয়ারি হিসাবে তা কমেছে।
অন্যদিকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেডের বাইরের খাতে নিট এফডিআই ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়ে ২৮০ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর বিনিয়োগ কমার বিপরীতে অন্য খাতে বিদেশি মূলধন প্রবাহের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করাও ইনভেস্ট বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বলে জানান নাহিয়ান রহমান রচি। তিনি বলেন, এক দশকের বেশি সময় ধরে বিলম্বিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়নকাজ এখন এগোচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ অঞ্চলকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রকাশিত ১৮০ দিনের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত অর্জন ও বাকি কাজের বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগ, চালু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে কাজ অব্যাহত থাকবে।

