ই-রিটার্ন জমায় কী কী ভুল এড়িয়ে চলবেন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ। তাদের মধ্যে অন্তত অর্ধকোটি প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা দেন। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় তথ্য উপস্থাপনে অসতর্কতা বা ভুলের কারণে অনেক করদাতাকে পরবর্তী সময়ে ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে।
রিটার্নে আয়, সম্পদ, বিনিয়োগ ও ব্যয়ের তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরা জরুরি। বিশেষ করে পাঁচটি বিষয়ে ভুল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
১. স্বর্ণের পরিমাণ বেশি দেখানো
বাস্তবে যতটুকু স্বর্ণ রয়েছে, রিটার্নে তার চেয়ে বেশি দেখানো ঠিক নয়। আয়ের সঙ্গে সম্পদের হিসাবের অসংগতি থাকলে করদাতাকে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই নিজের প্রকৃত সম্পদের তথ্যই রিটার্নে উল্লেখ করা উচিত।
২. হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানো
অনেকে রিটার্নে হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ বাস্তবের চেয়ে বেশি দেখান। কিন্তু আয়ের উৎস ও সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন নগদ অর্থের হিসাব সন্দেহ তৈরি করতে পারে। তাই রিটার্নে প্রকৃতপক্ষে হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।
৩. উপহার পাওয়া সম্পদের তথ্য বাদ দেওয়া
পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে জমি, ফ্ল্যাট, গয়না কিংবা অন্য কোনো মূল্যবান সম্পদ উপহার হিসেবে পেলে তার তথ্য রিটার্নে যথাযথভাবে উল্লেখ করতে হবে। উপহার পাওয়া সম্পদের ক্ষেত্রে কর প্রযোজ্য হবে কি না, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট আইন ও পরিস্থিতির ওপর। তাই করমুক্ত ধরে নিয়ে এসব তথ্য বাদ দেওয়া উচিত নয়।
৪. বিনিয়োগের তথ্য উল্লেখ না করা
অনেকে ব্যাংকের স্থায়ী আমানত (এফডিআর), ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস), সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ বিনিয়োগ করেন। এসব বিনিয়োগের তথ্য রিটার্নে বাদ দেওয়া ঠিক নয়। বিনিয়োগের সঠিক তথ্য দেখালে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর রেয়াত পাওয়ার সুযোগও থাকতে পারে।
৫. আয়ের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো
রিটার্নে প্রদর্শিত আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হলে অতিরিক্ত অর্থের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে। তাই আয়, ব্যয় ও সম্পদের হিসাব প্রস্তুতের সময় প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব দেখাতে হবে।
সম্পদ ও আয়ের প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করুন
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যেসব সম্পদ, আয় ও অর্থের উৎস উল্লেখ করা হয়, সেগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা ও প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, বিনিয়োগের কাগজপত্র, সম্পদ কেনার দলিল এবং উপহার পাওয়ার প্রাসঙ্গিক নথি ভবিষ্যতে তথ্য যাচাইয়ের সময় কাজে আসতে পারে।

-6ade0a65b5282.jpg)