Logo
Logo
×
   

Advertisement

বিনোদন

যেসব তারকাদের বিচ্ছেদের খবর বিশ্বে আলোড়ন ফেলেছিল

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০০ পিএম

যেসব তারকাদের বিচ্ছেদের খবর বিশ্বে আলোড়ন ফেলেছিল

জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

সংসার যখন ভেঙে যায়, তখন সাধারণ মানুষের জন্য তা ব্যক্তিগত শোকের বিষয় হলেও শোবিজ তারকাদের ক্ষেত্রে তা হয়ে উঠে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। রাজকীয় বিদ্রোহ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুদ্ধ—এমন কিছু বিচ্ছেদ রয়েছে যা কেবল সম্পর্ক শেষ করেনি, বরং আমাদের স্মৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এবং ইতিহাসের পাতায় দাগ কেটে যাওয়া এমনই কিছু আলোচিত বিচ্ছেদের গল্প নিচে তুলে ধরা হলো।

১. প্রিন্সেস ডায়ানা ও প্রিন্স চার্লস:

১৯৯৬ সালে যখন প্রিন্সেস ডায়ানা এবং প্রিন্স চার্লসের আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে, তখন এটি কেবল আইনি বিচ্ছেদ ছিল না; ছিল ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া এক ভূমিকম্প। 

১৯৯৫ সালে ডায়ানার সেই বিখ্যাত সাক্ষাৎকার যেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘এই সংসারে আমরা তিনজন ছিলাম,’ রাজপরিবারের তথাকথিত ‘রূপকথার বিয়ে’র কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। এই বিচ্ছেদ রাজপরিবারের ভাবমূর্তিতে এমন এক ক্ষত সৃষ্টি করেছিল যা আজও পুরোপুরি মুছে যায়নি।

২. শেখা মাহরা ও শেখ মানা আল মাকতুম: 

২০২৪ সালে দুবাইয়ের রাজকন্যা শেখা মাহরা প্রমাণ করেছেন যে নিজের অধিকার আদায়ে এখন আর আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয় না, একটি স্মার্টফোনই যথেষ্ট। বিয়ের মাত্র এক বছর পর তিনি ইনস্টাগ্রামে ‘ট্রিপল তালাক’ (আমি তোমাকে তালাক দিচ্ছি) লিখে তার স্বামীকে ত্যাগ করেন। স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগ তুলে দেওয়া ওই পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। 

শুধু তাই নয়, বিচ্ছেদের পর তিনি ‘ডিভোর্স’ নামে একটি পারফিউম ব্র্যান্ডও লঞ্চ করেন—যা ছিল বিশ্বাসঘাতকতাকে ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপ দেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ।

৩. সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিক: 

ভারতীয় টেনিস কিংবদন্তি সানিয়া মির্জা এবং পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের ২০২৪ সালের বিচ্ছেদটি ভক্তদের মনে গভীর দাগ কেটেছিল। ২০১০ সালে তাদের বিয়ে ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মধ্যে একটি সম্প্রীতির সেতুবন্ধন। 

যদিও বিচ্ছেদের পর শোয়েব দ্রুত নতুন জীবন শুরু করেছে, সানিয়া বেছে নিয়েছেন নীরবতা ও আভিজাত্য। জীবনের কঠিন পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার করা কিছু পোস্ট এবং সন্তান ইজহানের প্রতি তার একনিষ্ঠ মনোযোগ প্রমাণ করে যে, কাদা ছোড়াছুড়ি না করেও আত্মসম্মানের সঙ্গে বিচ্ছেদ সম্ভব।

৪. কিম কার্দাশিয়ান ও কেনিয়ে ওয়েস্ট:

২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্ববাসী দেখেছে ‘কিময়ে’ জুটির পতনের এক বিশৃঙ্খল অধ্যায়। এক সময়ের প্রভাবশালী এই দম্পতির বিচ্ছেদ রূপ নেয় ডিজিটাল দুঃস্বপ্নে। কেনিয়ে ওয়েস্টের উসকানিমূলক টুইট এবং কিমের প্রকাশ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সহমর্মিতার আবেদন—সব মিলিয়ে এটি ছিল এক চরম অস্থির সময়। 

এই বিচ্ছেদ মনে করিয়ে দেয়, শত কোটি ডলারের সাম্রাজ্যও বিচ্ছেদের যন্ত্রণা থেকে কাউকে মুক্তি দিতে পারে না।

৫. জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ড: 

জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ডের বিচ্ছেদ কেবল একটি আইনি লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বিষাক্ত সম্পর্কের ময়নাতদন্ত। ২০২২ সালের তাদের মানহানির মামলাটি সারাবিশ্বে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। পারস্পরিক নির্যাতনের অভিযোগ এবং আদালতের ভেতরকার চাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে টিকটক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার মূল খোরাক ছিল। 

ফলে অনলাইনে ব্যাপক ট্রলের মুখে পড়তে হয়েছিল অ্যাম্বার হার্ডকে।  এই মামলাটি প্রমাণ করেছে যে, কিছু বিচ্ছেদে আসলে কেউ জেতে না—উভয়পক্ষই ক্ষতবিক্ষত হয়। 

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম