বরফ চিবিয়ে তৃষ্ণা মেটাতেন বিজয়, কেন পানি খেতেন না অভিনেতা?
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
স্ত্রী রাশমিকা মান্দানার সঙ্গে বিজয় দেবেরাকোন্ডা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় সুপারস্টার বিজয় দেবেরাকোন্ডা প্রতিটি নতুন সিনেমায় নিজেকে বদলে ফেলান। নতুন সিনেমার নতুন চরিত্র হয়ে উঠতে কখনো ওজন ঝরিয়ে ফেলেন, আবার কখনো ওজন বাড়িয়ে নেন। এর জন্য খাদ্যাভ্যাসও পরিবর্তন আনেন তিনি। সেই ত্যাগের গল্প শোনালেন এ দক্ষিণী অভিনেতা।
বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার ‘রণবালী’ সিনেমা নিয়ে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। এ মুহূর্তে ব্যস্ত তারা এ সিনেমার কাজ নিয়ে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিজয়ের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কথা বলতে গিয়ে নিজের পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
‘লিগার’-এ এমএমএ যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিজয়। এ সিনেমাটির মাধ্যমেই হিন্দি ছবির জগতে তার অভিষেকও হয়েছিল। চরিত্রের প্রয়োজনে পেশিবহুল, ছিপছিপে চেহারা তৈরি করতে কঠোর শারীরিক প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল রাশমিকার জীবনসঙ্গীকে।
২০২২ সালের সিনেমা ‘লিগার’-এর জন্য কীভাবে নিজেকে তৈরি করেছিলেন, সেই কঠিন অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে আনতে গিয়েই অভিনেতা বলেন ‘লিগার’-এর জন্য নিজেকে তিনি আমূল বদলে ফেলেছিলেন। এমনিতে দিনে চার থেকে ছয় লিটার পানি খাওয়া তার নিত্য-অভ্যাস। কিন্তু চরিত্রের স্বার্থে তিনি সেই চার থেকে ছয় লিটার পানির বদলে তা নামিয়ে এনেছিলেন মাত্র ১০০ মিলিলিটারে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন শুটিংয়ের আগে টানা ১০ ঘণ্টা পানি না খেয়েও থাকতে হতো তাকে।
বিজয় বলেন, শরীরকে আরও পেশিবহুল দেখানোর জন্য শুটিংয়ের আগে তার পানি খাওয়ার পরিমাণ ধাপে ধাপে কমানো হতো। প্রথমে ধীরে ধীরে পানি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে তা ৩০০ মিলিলিটারে আনা হয়। পরে সেই পরিমাণ একেবারে কমিয়ে ১০০ মিলিলিটারে দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি। তেষ্টা মেটাতে শেষ পর্যন্ত তাকে বরফের টুকরো মুখে রাখতে হতো। তিনি বলেন, এ পদ্ধতি মোটেই সহজ ছিল না। কারণ সবচেয়ে বড় কথা— এটি স্বাস্থ্যকরও নয়। কখন শুট শেষ হবে, শুধু সেই অপেক্ষা করতাম।
শরীরে পানির পরিমাণ এতটা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছিল বলে জানান বিজয় দেবেরাকোন্ডা। তিনি বলেন, শুটিং শেষ হলেই পানি খেতে পারবেন— এ ভাবনাই তখন তার মাথায় ঘুরত। চার ঘণ্টার শুটিং শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতেন তিনি।
শুটিং শেষ হওয়ার পর কী খাবেন, তা নিয়েও বিশেষ আগ্রহ ছিল না বলে জানান অভিনেতা। তিনি বলেন, একমাত্র চিন্তা ছিল কতক্ষণে তিনি পানি পান করবেন। তাই তার টিমকেও সব ব্যবস্থা করে রাখতে বলতেন। শুটিং শেষ হলেই নারিকেলের পানি নিয়ে প্রস্তুত থাকত টিম। প্রায় চার লিটার নারিকেলের পানিও চাইতেন তিনি।
বিজয় বলেন, এ ছাড়া শুটিং চলাকালে আড়াই ঘণ্টা পেরোতেই নাকি টিমকে কাজ শেষ করার কথা বলতে শুরু করতেন। এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাই আরও একবার মনে করিয়ে দেয় একজন অভিনেতার একটা চরিত্রের প্রতি নিষ্ঠার কথা বলে জানান এ দক্ষিণী অভিনেতা।

