Logo
Logo
×

Advertisement

বিনোদন

গাড়ি কেনার দেড় কোটি টাকায় যেভাবে কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিয়েছিলেন নানা পাটেকর

Advertisement

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১২ পিএম

গাড়ি কেনার দেড় কোটি টাকায় যেভাবে কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিয়েছিলেন নানা পাটেকর

Advertisement

পর্দায় তার কণ্ঠের গর্জন আর শক্তিশালী অভিনয় একসময় কাঁপিয়ে দিত সিনেমাহল। যে কোনো চরিত্রে নিজেকে উজার করে দেওয়ার অনন্য ক্ষমতার জন্য ভারতীয় চলচ্চিত্রে তিনি এক কিংবদন্তি। তবে কেবল রূপালি পর্দাতেই নয়, বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন গ্রামীণ ভারত ও দুর্দশাগ্রস্ত কৃষকদের জন্য একজন সত্যিকারের নায়ক। 

অভিনয়ের পাশাপাশি নানার সমাজসেবামূলক কাজ তার জীবনের একটি বিরাট অংশজুড়ে ছিল। ২০১৫ সালে আরেক অভিনেতা মকরন্দ অনাসপুরের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি গড়ে তোলেন ‘নাম ফাউন্ডেশন’। 

গত এক দশকে এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রায় ৭৭ লাখের বেশি কৃষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, ৫০ হাজারের বেশি দূর্যোগকবলিত পরিবার এবং প্রায় ৫ হাজার বিধবা নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। 

খরা মোকাবিলা, পানি সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে তারা বদলে দিয়েছেন বহু মানুষের জীবন। 

এই সমাজসেবার পেছনের গল্পটাও বেশ নাটকীয়। ২০১৫ সালে মহারাষ্ট্রে মারাত্মক খরা আর কৃষি সংকট দেখা দেয়। সরকারি তথ্যমতে, সে বছর ৩,২২৮ জন কৃষক আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, যার মধ্যে শুধু খরাকবলিত মারাঠওয়াড়া অঞ্চলেই সংখ্যাটি ছিল ১,১৩০।

ঠিক সেই সময়ে নানা পাটেকর নিজের জন্য একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখছিলেন। অনেক দিন ধরে টাকা জমিয়ে প্রায় ১.৫ কোটি রুপি গুছিয়েও ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু একদিন সন্ধ্যার একটি ঘটনাই তার ইচ্ছার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। 

এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতিচারণ করে নানা বলেন, ‘বিলাস বহুল গাড়ি কেনার জন্য ১.৫ কোটি রুপি জমিয়েছিলাম। একদিন সন্ধ্যায় ঘরে বসে টিভি দেখতে দেখতে এক কৃষক পরিবারের সাক্ষাৎকার চোখে পড়ে, যাদের উপার্জনক্ষম সদস্যটি আত্মহত্যা করেছিলেন। স্বজন হারানোর বেদনার চেয়েও তাদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠা চরম অনাহার আর ক্ষুধা আমাকে নাড়া দেয়।’ 

টিভি পর্দার সেই মর্মান্তিক দৃশ্য নানা পাটেকরকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। তিনি নিজের মনকে প্রশ্ন করেন, ‘আমার কি আসলেই এই মুহূর্তে এমন দামি গাড়ির প্রয়োজন আছে?’ 

তিনি গাড়ি কেনার চিন্তা ঝেড়ে ফেলেন এবং ১ হাজার জন দুর্দশাগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে ১৫ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

তার এক বন্ধুর পরামর্শে সাহায্য বিতরণের আগে তিনি সেই সব নারীদের সঙ্গে নিজে গিয়ে দেখা করেন, যারা স্বামীদের হারিয়েছেন। অসহায় মানুষগুলোর চোখে চোখ রেখে তাদের কষ্টের গল্প শোনাটাই নানার জীবনের রূপরেখা বদলে দেয়। 

তিনি বুঝতে পারেন, কেবল সাময়িক কিছু টাকা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পর থেকেই মকরন্দ অনাসপুরেকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় স্থায়ী কোনো উদ্যোগের পরিকল্পনা, যার ফল হিসেবে জন্ম নেয় ‘নাম ফাউন্ডেশন’। 

পানির সংকট দূর করতে নতুন খাল খনন, পরিত্যক্ত জলাশয় পুনরুজ্জীবিত করা এবং পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলোর সার্বিক উন্নতির কাজে লেগে পড়ে সংগঠনটি। 

গাড়ি কেনার জমানো টাকা থেকে শুরু হওয়া সেই ছোট্ট উদ্যোগটিই পরবর্তীতে রূপ নেয় একটি বিশাল সামাজিক আন্দোলনে। ফলে হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার পর্দা কাঁপানো এই তারকা অভিনয়ের পাশাপাশি ভারতের কৃষক সমাজের কাছে হয়ে ওঠেন এক আলোর দিশারী। 

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

নানা পাটেকরের ভাই কে এই গ্যাংস্টার মানিয়া সুরভে?

নানা পাটেকরের ভাই কে এই গ্যাংস্টার মানিয়া সুরভে?

অল্পের জন্য আন্ডারওয়ার্ল্ডে যোগ দেননি নানা পাটেকর

অল্পের জন্য আন্ডারওয়ার্ল্ডে যোগ দেননি নানা পাটেকর

সম্পর্ক ভালো ছিল না, তবু স্ত্রীর বেতনেই চলত নানার সংসার?

সম্পর্ক ভালো ছিল না, তবু স্ত্রীর বেতনেই চলত নানার সংসার?

নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রীর করা হেনস্থার অভিযোগ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল যেভাবে

নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে তনুশ্রীর করা হেনস্থার অভিযোগ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছিল যেভাবে

নানা পাটেকরের প্রয়াণে ‘অপমৃত্যু’র মামলা দায়ের করল পুলিশ

নানা পাটেকরের প্রয়াণে ‘অপমৃত্যু’র মামলা দায়ের করল পুলিশ

৩৫ বছর আলাদা থেকেও বিচ্ছেদ নয়—নানা পাটেকরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে যা জানা গেল

৩৫ বছর আলাদা থেকেও বিচ্ছেদ নয়—নানা পাটেকরের দাম্পত্য জীবন নিয়ে যা জানা গেল

আরও পড়ুন

নানা পাটেকরের ভাই কে এই গ্যাংস্টার মানিয়া সুরভে?

নানা পাটেকরের ভাই কে এই গ্যাংস্টার মানিয়া সুরভে?

অল্পের জন্য আন্ডারওয়ার্ল্ডে যোগ দেননি নানা পাটেকর

অল্পের জন্য আন্ডারওয়ার্ল্ডে যোগ দেননি নানা পাটেকর

যুক্তরাষ্ট্রে আটক কাশ্মীরি পরিচালক আরফাত জামিনে মুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রে আটক কাশ্মীরি পরিচালক আরফাত জামিনে মুক্ত

সম্পর্ক ভালো ছিল না, তবু স্ত্রীর বেতনেই চলত নানার সংসার?

সম্পর্ক ভালো ছিল না, তবু স্ত্রীর বেতনেই চলত নানার সংসার?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম