‘অভিনেত্রী হয়েছি বলে কি ব্যক্তিগত জীবন থাকবে না?’—প্রশ্ন রাধিকার
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বলিউডে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি ও দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছেন রাধিকা আপ্তে। তবে তারকা খ্যাতির কারণে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের স্বাধীনতা হারাতে রাজি নন এই অভিনেত্রী।
রাস্তায় ছবি তোলার আবদার, পিছু নেওয়া কিংবা একটানা তাকিয়ে থাকার মতো ঘটনায় বিরক্ত হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি—অভিনেত্রী হয়েছেন বলেই কি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলে কিছু থাকবে না?
সম্প্রতি ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খ্যাতি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা তুলে ধরেন রাধিকা। নতুন সিরিজ ‘আক্কা’ মুক্তির আগে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তার কাছে তারকা খ্যাতি সব সময় আনন্দের বিষয় নয়; কখনো কখনো তা অস্বস্তিরও কারণ।
২০১৫ সালে ‘বাদলাপুর’, ‘হান্টারর’ ও ‘মাঞ্জি: দ্য মাউন্টেন ম্যান’ সিনেমার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন রাধিকা। এরপর নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। তবে পেশাগত পরিচিতি বাড়লেও তারকাদের ঘিরে প্রচলিত জীবনযাপন কিংবা সব সময় মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।
ছবি তোলার আবদারে বিরক্ত অভিনেত্রী
রাধিকা জানান, রাস্তায় কেউ তাকে চিনে ছবি তুলতে চাইলে সাধারণত তিনি রাজি হন না। সেলফি তোলার অনুরোধও এড়িয়ে চলেন। তার এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের এজেন্টদের সঙ্গেও মতবিরোধ হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, অভিনেত্রী হয়ে তিনি কেন এমন আচরণ করেন? তবে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে চান না রাধিকা।
বিমানবন্দরে সাজগোজ করে যাওয়া কিংবা সব সময় মানুষের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানোর প্রতিও তার বিশেষ আগ্রহ নেই। তারকা পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া প্রচলিত জীবনধারা থেকে দূরে থাকতেই পছন্দ করেন তিনি।
রাধিকার মতে, অভিনয়শিল্পী হওয়া মানেই সব সময় দর্শকের সঙ্গে ছবি তুলতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দর্শকের ভালোবাসার প্রতি তার শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে সেই ভালোবাসার পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত পরিসর রক্ষা করার অধিকারও তার আছে।
লন্ডনেও স্বাভাবিক চলাফেরায় বাধা
বর্তমানে লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করেন রাধিকা। লন্ডনে চলাচলের জন্য গণপরিবহন ব্যবহার করতে পছন্দ করেন তিনি। কিন্তু সেখানেও মানুষের অতিরিক্ত নজর তাকে অস্বস্তিতে ফেলে।
অভিনেত্রী জানান, কেউ একটানা তার দিকে তাকিয়ে থাকলে বা তার সামনে বসে একইভাবে নজরদারি করতে থাকলে কখনো কখনো তাকে পাঁচবার পর্যন্ত ট্রেনের কামরা বদলাতে হয়েছে। মানুষের এমন আচরণের কারণ বুঝতে পারেন না তিনি।
পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও একই সমস্যায় পড়েন রাধিকা। বিশেষ করে মেয়েকে নিয়ে বাইরে বের হলে মানুষের অতিরিক্ত মনোযোগ তাকে বিরক্ত করে। এমনকি তার বাড়ির বাইরেও কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
তার মতে, পর্দায় কাউকে নিয়মিত দেখার কারণে দর্শকের মনে পরিচিতির অনুভূতি তৈরি হতে পারে। কিন্তু সেই পরিচিতির অজুহাতে কাউকে অনুসরণ করা কিংবা তার ব্যক্তিগত জীবনে অনধিকার প্রবেশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
মানুষের এমন আচরণ তাকে কতটা মানসিকভাবে আঘাত করে, তা বোঝাতে একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন রাধিকা। একদিন একটি পার্কে এক নারীকে হাঁসকে সাদা পাউরুটি খাওয়ানো থেকে বিরত করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু ওই নারী যখন বুঝতে পারেন যে রাধিকা একজন অভিনেত্রী, তখন তার কথার দিকে মনোযোগ না দিয়ে সেলফি তোলার আগ্রহ দেখান।
ঘটনাটি গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল অভিনেত্রীকে। বাড়ি ফিরে কেদেও ফেলেছিলেন তিনি। কারণ, তার মনে হয়েছিল, তিনি কী বলছেন, তা বোঝার চেয়ে ওই নারীর কাছে তার তারকা পরিচয় এবং ছবি তোলার বিষয়টিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।
রাধিকার বক্তব্য, কেউ তার ভক্ত হলে ভদ্রভাবে কাছে এসে নিজের ভালো লাগার কথা জানাতে পারেন। এতে তার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু খাওয়ার সময়, বন্ধুর সঙ্গে কফি পান করার মুহূর্তে কিংবা পরিবারের সঙ্গে বাইরে থাকাকালে বারবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া বিরক্তিকর।
তারকাদের ব্যক্তিগত পরিসর নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে রাধিকা জানান, বিষয়টি দর্শকের প্রতি অকৃতজ্ঞতার নয়। অভিনয়শিল্পীরাও অন্য সবার মতো মানুষ। তাদেরও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং নিজস্ব পরিসর রয়েছে।
তার মতে, পর্দায় কাউকে বারবার দেখার কারণে দর্শকের মনে হতে পারে, তারা ওই মানুষটিকে ভালোভাবে চেনেন। কিন্তু পর্দার বাইরের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। সেই পার্থক্য বোঝা এবং ব্যক্তিগত সীমারেখাকে সম্মান করা জরুরি।
রাধিকা আরও জানান, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সময় তার রাগ হয়। তার স্বামী তাকে হাসিমুখে পরিস্থিতি সামলানোর পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে অস্বস্তিকর মুহূর্তগুলো সহজে মোকাবিলা করা যায়। সেই পরামর্শ মেনে নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন তিনি। তবে বিষয়টি শুধু রাগের নয়, নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা হারানোর কষ্টও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
অভিনেতা বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গেলেও কখনো কখনো পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। কারণ, তার বন্ধুরা ছবি তুলতে রাজি হলেও রাধিকা নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। এতে অন্যদের চোখে তাকে নেতিবাচক মনে হতে পারে। তারপরও ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখতেই চান তিনি।

