|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতারক কিংবা ‘কনম্যান’খ্যাত পরিচিতমুখ সুকেশ চন্দ্রশেখরের ২০০ কোটি রুপি চাঁদাবাজির মামলায় সাক্ষী হিসেবে দিল্লির আদালতে হাজির হতে হয়েছিল বলিউডের মডেল-অভিনেত্রী নোরা ফাতেহিকে। ভারতে তার অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। সেই সঙ্গে চেন্নাই সফর ও সুকেশের স্ত্রী লীনা পলসের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়েও আদালতকে জানান অভিনেত্রী।
মরক্কোর বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিক নোরা ফাতেহিকে এর আগে দুবার তলব করেছিলেন আদালত। চলতি মাসের শুরুতে তার আইনজীবী হাজিরা থেকে অব্যাহতি চাইলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারক। বিচারক বলেন, সাক্ষী হিসেবে নোরার আদালতে উপস্থিত হওয়া উচিত ছিল। আদালতকে অবহেলা না করারও সতর্কতা দেন তিনি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আদালতে নিজের বক্তব্য দিতে গিয়ে নোরা ফাতেহি জানিয়েছেন, টি-সিরিজের সঙ্গে কাজের জন্য ভিসা নিয়ে ভারতে রয়েছেন তিনি।
সুকেশ চন্দ্রশেখর ও তার স্ত্রী লীনা পলসের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে নোরাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ। পরে সম্পূরক অভিযোগপত্রে তাকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী করা হয়। পুলিশের দাবি, নোরা ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজসহ বলিউডের কয়েকজন অভিনেত্রীকে দামি উপহার দিয়েছিলেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। ২০২২ সালে তাকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছিলেন নোরা ফাতেহি।
উল্লেখ্য, সুকেশ চন্দ্রশেখর ভারতের একজন কুখ্যাত ও বহুল আলোচিত প্রতারক কিংবা ‘কনম্যান’। মাত্র ১৭ বছর বয়স থেকে প্রতারণার জগতে পা রাখা বেঙ্গালুরুর এ বাসিন্দা রাজনীতি ও ব্যবসায়ী মহলের প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে দেশের একাধিক মেট্রো শহরে শত শত কোটি টাকার জালিয়াতি চক্র গড়ে তোলেন।
বর্তমানে ২০০ কোটি রুপির চাঁদাবাজি ও জালিয়াতি মামলায় দিল্লির রোহিণী কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। তিনি ভারতের এক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার সাবেক মালিক শিবিন্দার সিং ও মালবিন্দার সিংয়ের স্ত্রীদের কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেজে জামিন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রায় ২০০ কোটি রুপি চাঁদাবাজি করেন। এ অর্থ বিভিন্ন হাওয়ালা চ্যানেল ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল। বর্তমানে জেলে আছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর।

