বাঁশখালীতে বন্যায় ২৬ হাজার কৃষকের ৫৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি
Advertisement
আবু বক্কর বাবুল, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামসহ দেশের সিংহভাগ সবজির চাহিদা পূরণ করে বাঁশখালীর কৃষকেরা। সারাবছর সবজি উৎপাদন ও বিক্রি করেই চলে তাদের জীবিকা। সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের লোনা পানিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বাঁশখালীর কৃষিখাত।
বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার প্রায় ২৬ হাজার ৮০০ কৃষক। বন্যায় কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অধিকাংশ সবজি খেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে আকাল দেখা দিয়েছে শাক-সবজির। ফলে বাজারে এখন সবজির দাম বেড়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় বাঁশখালী পৌর সদরের কাঁচাবাজার ও শীলকুপের টাইম বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সবজিই বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে।
স্থানীয় বাজারে বর্তমান সবজির মধ্যে প্রতি কেজি কাকরোল- ১২০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, বরবটি- ১২০ টাকা, ঢেঁড়স- ১২০ টাকা, কচুর লতি- ৮০ টাকা, কচুর ছড়া- ৭০ টাকা, কাঁচা মরিচ- ২০০ টাকা, আলু (দেশি)- ১০০ টাকা, আলু (চট্টগ্রামের বাইরের)- ৩০ টাকা, কাঁচা কলা- ২০ টাকা (প্রতি পিস)। অথচ বন্যার মাত্র কয়েকদিন আগেও এসব সবজির বেশিরভাগই প্রতি কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবারের বন্যায় উপজেলায় মোট ৩ হাজার ৪৪৬.৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে গ্রীষ্মকালীন সবজি- ১ হাজার ১০০ হেক্টর, আউশ ধান- ২ হাজার ২৩৫ হেক্টর, আমন বীজতলা- ৫৫ হেক্টর, পেঁপে- ২০ হেক্টর, আদা- ২০ হেক্টর, পান- ১০ হেক্টর, হলুদ- ৬.৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পৌরসভার কাউন্সিলর ছাদাকা খানম বিউটি জানান, এবারের বন্যার পরে সবজির দাম অনেক বেশি। ফলে নিম্নআয়ের মানুষ সবজি কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। নতুন সবজি উৎপাদন না হওয়া পর্যন্ত এমন ভোগান্তি চলতে থাকবে।
বাজারের স্থানীয় সবজি বিক্রেতা আবদুল আলীম বলেন, আমার কাকরোল খেতের অধিকাংশই পানিতে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। যে টুকু অবশিষ্ট ছিল তা বাজারে তুলে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার যুগান্তরকে জানান, সরকারি প্রাথমিক হিসাবে উপজেলায় ২৬ হাজার ৮০০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। তবে সরকারি হিসাবের চেয়ে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম জানান, এবারের বন্যায় চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালীতে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
