নুসরাত হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামি কারামুক্ত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর ও সোনাগাজী (ফেনী) দক্ষিণ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
নুসরাত জাহান রাফী
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া ১০ জন কারামুক্তি পেয়েছেন। এদের মধ্যে সোমবার ফেনী ও চট্টগ্রাম কারাগার থেকে দুইজন মুক্তি পান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে ৭ জন ও মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১ জন মুক্তি পেয়েছেন।
আটজনের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-মামুন।
গাজীপুর কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন- মো. শামীম, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, আফসার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার উদ্দিন রানা,আব্দুর রহিম শরীফ এবং কামরুন্নাহার মনি।
মুক্তিপ্রাপ্ত ইফতেখারের মা হাজেরা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ছিল। আল্লাহর কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া আমার ছেলেকে বুকে ফিরে পেয়েছি।
এদিকে মুক্তির খবরে সকাল থেকেই তাদের আত্মীয়স্বজন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় মুক্তিপ্রাপ্তরা তাদের আত্মীয়স্বজনকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফেনী জেলা কারাগার থেকে সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম সাড়ে সাত বছর পর ফেনী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। তিনি সোনাগাজী উপজেলার চর গণেশ এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আহসান উল্যাহর ছেলে।
একই দিন বিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের সবাইকে তাদের স্বজনরা ফুল দিয়ে বরণ করেন।
ফেনী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম বলেন, নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় মাকসুদ আলমের খালাসের আদেশের কপি বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ফেনী কর্তৃক প্রেরিত রোববার রাত ৮টার দিকে ফেনী জেলা কারাগারে পৌঁছায়। সেই আদেশের আলোকে ১৪ সেপ্টেম্বর মাকসুদ আলম প্রকাশ মাকসুদ আলী কাউন্সিলরকে কারাগার থেকে মুক্তি প্রদান করা হয়।
২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি করেন নিহত নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনী জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশিদের আদালত ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে গত ২৪ আগস্ট অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড ও চারজন আসামি নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ও উম্মে সুলতানা পপির যাবজ্জীবন এবং ১০ জন আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়।
