যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের জের
দুর্গাপুরে সার জব্দের হিসাব নিয়ে ইউএনওর সংবাদ সম্মেলন
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর রাজশাহীর দুর্গাপুরে অবৈধভাবে সার মজুদ ও অভিযানে জব্দ করা সারের পরিমাণ নিয়ে গরমিলের অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা প্রশাসন। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর রাজশাহীর দুর্গাপুরে অবৈধভাবে সার মজুদ ও অভিযানে জব্দ করা সারের পরিমাণ নিয়ে গরমিলের অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয়। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, সার জব্দের ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয়। তিনি সাংবাদিকদের যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য প্রচারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে সঠিক তথ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ করেন তিনি।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত গণকৈড় ইউনিয়নের আড়ইল এলাকায় সার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ইউএনওর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে ৬৭০ বস্তা টিএসপিসহ, ডিএপি/ডিওপি ও ইউরিয়া সার জব্দ করা হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে অভিযানের পর সার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম দাবি করেন, তার বাড়িতে মোট ৯৯৫ বস্তা সার ছিল। প্রশাসন ৬৭০ বস্তা জব্দ দেখিয়েছে এবং বাকি ৩২৫ বস্তা সার গায়েব করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ওই সার বিক্রি করে ৮ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন সাইদুল।
তবে প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনীসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সার জব্দের পরিমাণ, জব্দকৃত সার সংরক্ষণ ও পরবর্তী সময়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ ও বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রশাসনের দাবি, জব্দ করা সার নিয়ে গায়েবের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। সার ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলামের বৈধ সার ব্যবসার লাইসেন্স না থাকার বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা হয়।
এদিকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার ‘দুর্গাপুরে অভিযান নিয়ে প্রশ্ন, সার গায়েব ৩২৫ বস্তা’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বেলায়েত হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন দেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
