মাদ্রাসায় রাতের আঁধারে কোচিং অধ্যক্ষের
Advertisement
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কমলনগরের হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসায় চলছে অদ্ভুত এক কাণ্ড!রাত নামলেই নাকি সেখানে বসে কোচিংয়ের রমরমা আসর! সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে এ অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন খোদ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষগুলো জমজমাট থাকে প্রায় ৭৫ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে। আর এই ‘নাইট কোচিংয়ের’ বিনিময়ে মাথাপিছু আদায় করা হচ্ছে চড়া মূল্য—৩ হাজার টাকা করে! প্রশাসনের চোখের সামনেই এভাবে আইন ভেঙে নিয়মবহির্ভূত কাজ চললেও অদৃশ্য কারণে নেওয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ।
গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভবনে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের নাইট কোচিং করাচ্ছেন মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক (আরবি) ও অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের আত্মীয় নুরুল হুদা; পাশেই অবস্থান করছেন অধ্যক্ষ নিজে। এ সময় অধ্যক্ষের পাশে দুই নারীকেও অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে ওই দুই নারী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক প্রথা ও সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে তিনি (অধ্যক্ষ) মাদ্রাসার চতুর্থ তলার একটি কক্ষে নিয়মিত রাতযাপন করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের ব্যক্তিগত বসতবাড়ির মতো ব্যবহার করছেন।
রাতের বেলা মাদ্রাসায় অবস্থান ও নাইট কোচিংযের বিষয়ে অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। বলেন, আপনারা রাতের বেলা কেন এসেছেন যা বলার অফিস টাইমে এসে বলবেন। রাতযাপন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একই মন্তব্য করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাঠদানের অনুমতি থাকলেও বহুল আলোচিত এই ভবনটি মূলত ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত একটি ৩তলা বিশিষ্ট সাইক্লোন শেল্টার। দুর্যোগের সময়ে সাধারণ মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহারের জন্য এটি তৈরি করা হলেও ভবনটিকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে অনিয়মের সাম্রাজ্য। কোচিং চলাকালে নিচ তলার লোহার কলাপসিবল গেটটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের যোগদানের পর থেকেই মাদ্রাসাটি একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। এর আগেও তিনি একাধিক গুরুতর অনিয়মের কারণে জাতীয় গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। গণপূর্ত বিভাগের মালিকানাধীন কোটি টাকার একটি ভবন নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে সেই টাকা মাদ্রাসার অ্যাকাউন্টে না রেখে নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরে সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনিক চাপে পড়ে টাকা মাদ্রাসার অ্যাকাউন্টে ফেরত দিতে বাধ্য হন। এছাড়া সরকারি বই অবৈধভাবে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার এক শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন প্রতিষ্ঠানে নিজের একক আধিপত্য বজায় রাখতে ভেতরে একটি শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা পুরোপুরি উপেক্ষা করে মনগড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন।
জানতে চাইলে কমলনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য গড়ে তোলার বিষয়টি বিধিবহির্ভূত। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান জানান, রাতে মাদ্রাসায় কোচিং করানো বা রাতযাপন করার কোনো সুযোগ নেই; সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসার মোবাইলফোনে একাধিকবার ফোন করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
