কটিয়াদীতে ইমামের লাশ ও গলাকাটা আহত যুবক উদ্ধার
Advertisement
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
ছুিব: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মসজিদের হুজরাখানা থেকে মো. শামীম মিয়া (২৫) নামে এক ইমামের লাশ ও গলাকাটা অবস্থায় গুরুতর আহত মো. সোহান (২৩) নামে এক যুবককে উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী ও পুলিশ।
রোববার রাত ১ টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামের ইছাম উদ্দিনের বাড়ির নূরানী জামে মসজিদের হুজরাখানায় (ইমামের কক্ষ) ঘটনাটি ঘটেছে।
শামীম মিয়া ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি একই মসজিদের মোয়াজ্জিন ফরিদ মিয়ার ছেলে। আহত সোহান মিয়া ওই গ্রামেরই মৃত সৈয়দ মিয়ার ছেলে। শামীম ও সোহান দুইজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পাশাপাশি তাদের বাড়ি। রোববার রাত একটার দিকে মসজিদের হুজরাখানায় হট্টগোলের পর এলাকার লোকজন জাগ্রত হয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখতে পায় সোহান গলাকাটা অবস্থায় রক্তমাখা শরীরে উলঙ্গ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ সময় মসজিদের ইমাম শামীম অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় বসে আছে।
এ সময় উপস্থিত লোকজন শামীমকে বাড়ি চলে যেতে বলেন এবং গুরুতর আহত সোহাগ মিয়াকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
ফজরের নামাজের আগে আজান দেওয়ার জন্য মসজিদের মুয়াজ্জিন ফরিদ মিয়া এসে দেখেন তারই ছেলে মসজিদের ইমাম মো. শামীম মিয়া হুজরাখানার ধন্নার (আড়ার) সঙ্গে মৃত অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। বিষয়টি এলাকার লোকজন থানাকে অবহিত করলে পুলিশ এসে ইমামের লাশ নিয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, শামীম ও সোহান ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তারা দুজন নিয়মিত একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে মসজিদের ভেতরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সোহানকে গলাকাটা, রক্তাক্ত ও উলঙ্গ অবস্থায় মসজিদের সামনে দেখতে পান স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা মনি আক্তার জানান, রাতে মসজিদের পাশ থেকে হৈচৈ ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তিনি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ঘর থেকে বের হন। বাইরে লাইট জ্বালিয়ে সোহানকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তিনি চিৎকার করে পরিবারের সদস্যদের ডাকেন।
মনি আক্তারের ভাশুর আজিজ মিয়া বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আমাকে ডেকে ঘটনাটি জানালে আমি মসজিদের সামনে যাই। সেখানে সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় মসজিদের গেটের পাশে বসে থাকতে দেখি। তার পাশেই ইমাম শামীম বসা ছিলেন। সোহানের এ অবস্থা কীভাবে হলো জানতে চাইলে ইমাম শামীম তাকে মারধর করেছেন বলে গুরুতর আহত সোহান জানায়।
পরে স্থানীয়রা সোহানকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় শামীমকে বাড়িতে চলে যেতে বলা হয়।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে শামীমকে বাড়িতে চলে যেতে বলে তিনি সোহানকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার সকালে বাড়িতে ফোন করে তাকে জানানো হয়, মসজিদের পাশের ইমামের কক্ষে শামীমের ঝুলন্ত লাশ দেখা গেছে।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শামীমের লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা। মরদেহের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
