ঝর্ণা হত্যা মামলায় স্বামী সাগরের মৃত্যুদণ্ড
Advertisement
কিশোরগঞ্জ ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে চাঞ্চল্যকর ঝর্ণা আক্তার হত্যা মামলায় তার স্বামী ইসমাইল সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল সাগর মিয়া (৩২) বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১০ বছর আগে ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে ইসমাইল সাগর মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইসমাইল সাগর স্ত্রীকে নির্যাতন ও মারধর করতেন বলে অভিযোগ করা হয়।
স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে ঝর্ণা আক্তার দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে বাজিতপুর উপজেলার নিলক্ষী নয়াহাটে মায়ের বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে তিনি মাকে স্বামীর নির্যাতনের বিষয়টি জানান।
পরদিন ১২ এপ্রিল রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ইসমাইল সাগর অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। ওই সময় ঝর্ণা বাড়ির পূর্বপাশে মাটির চুলায় রান্না করছিলেন। সেখানে ইসমাইল সাগর কোমর থেকে ধারাল ছুরি বের করে ঝর্ণার শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করেন।
ঝর্ণা চিৎকার করে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে আরও ছুরিকাঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে লাথি, কিল ও ঘুসি মারতে থাকেন ইসমাইল সাগর। ঝর্ণার বোন স্বপ্না আক্তার, রাজিব মিয়া ও সবুজ মিয়াসহ কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ইসমাইল সাগর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজ মিয়ার হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত ঝর্ণা আক্তারকে উদ্ধার করে বাজিতপুরের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মোছাম্মাৎ জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠায়। পরে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
