ফতুল্লায় বিএনপির বিরুদ্ধে এনসিপি নেতার ওপর হামলার অভিযোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০২ পিএম
আহত এনসিপি নেতা তাওহীদ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বক্তাবলী ইউনিয়নের বক্তাবলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এনসিপির জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তাওহীদ। তাকে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানান দলটির প্রচার উপ-কমিটির সম্পাদক সোনিয়া আক্তার লুবনা।
সোনিয়া আক্তার লুবনা বলেন, বক্তাবলী বাজার এলাকায় স্থানীয় এক নেতার বাড়িতে তাদের সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে জেলা কমিটির আহ্বায়ক যুবাইর সরদারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও বাজারে কথা বলেন এনসিপির নেতারা। স্থানীয় লোকজন তখন এনসিপির নেতাকর্মীদের কাছে বক্তাবলী এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবৈধভাবে মাটি কাটা নিয়ে অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, মাটি কাটা নিয়ে তখন এনসিপির নেতারা প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্যও রাখেন। এই বক্তব্যের জেরেই দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালান। হামলায় আমাদের নেতা তাওহীদুল গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মাথাও ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের নির্দেশে তার ছোটভাই ইয়াসিন ও অনুসারী নেতাকর্মীরা হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতারা।
এ ঘটনায় এনসিপির স্থানীয় সংসদ সদস্য (নারায়ণগঞ্জ-৪) আব্দুল্লাহ আল আমিনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলীতে শান্তিপূর্ণ মিটিংয়ে তাওহীদসহ এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি সন্ত্রাসীদের ন্যক্কারজনক হামলার জবাব নেওয়া হবে। হামলাকারী বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় না আনা হলে সমস্ত দায়-দায়িত্ব প্রশাসন ও সরকারি দলকে নিতে হবে।’
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা হালিম আজাদ। তিনি মোবাইলে বলেন, ‘এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কিছু লোকজনের ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে আমি শুনেছি। সেখানে তাওহীদ আহতও হয়েছে বলে জেনেছি। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে আমি কিংবা আমাদের কেউ জড়িত না। কার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে তাও জানি না। আমি নিজেও বিষয়টি খোঁজ করছি।’
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলমের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।
তবে, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) শামীম হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর করা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

