দীর্ঘ বিরতি দিয়ে একটি করে তালাক দিলে কি তা কার্যকর হবে?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পাশাপাশি অধিকার, দায়িত্ব ও বিশ্বস্ততার গুরুত্বও অপরিসীম। কিন্তু নানা কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হতে পারে, এমনকি কখনো তালাকের মতো কঠিন সিদ্ধান্তও সামনে আসে। ইসলামে তালাকের বিধান ও এর পরিণতি নিয়ে তাই সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।
একজন প্রবাসী ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে মৌখিকভাবে দুবার তালাক দেওয়ার পর আবার সংসার করেছেন। প্রায় দুই বছর পর আবার মেসেজে স্ত্রীকে তৃতীয়বার তালাক দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এ অবস্থায় আগের তালাকগুলোর কী হুকুম, মেসেজে দেওয়া তালাক কার্যকর হয়েছে কি না এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে দেওয়া আগের তালাক বাতিল হয়ে যায় কি না—এসব বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির পূর্বের প্রদত্ত দুই তালাকের পর মোবাইল মেসেজে দেওয়া তৃতীয় তালাকটি কার্যকর হয়ে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তারা একে অপরের জন্য পরিপূর্ণ হারাম হয়ে গেছে।
অতএব, এ অবস্থায় তাদের আর ঘর-সংসার করার কোনোই সুযোগ নেই। এমনকি নতুন করে পুনরায় বিবাহ পড়িয়ে নিলেও তারা একে অন্যের জন্য হালাল হবে না।
তৃতীয় তালাকের দিন থেকে মহিলাটি ঋতুমতী হলে পূর্ণ তিনটি ঋতুস্রাব আর অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দত চলাকালীন তার ভরণ-পোষণ তালাকদাতার জিম্মায় থাকবে। মহর অনাদায়ী থাকলে তাও তাকে আদায় করে দিতে হবে।
ইদ্দত শেষ হওয়ার পর ওই মহিলা চাইলে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। কিন্তু তিন তালাক হয়ে যাওয়ার কারণে ইদ্দতের ভেতর কিংবা ইদ্দতের পরও তালাকদাতা স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবশ্য ইদ্দত শেষ হওয়ার পর মহিলাটির যদি অন্যত্র বিবাহ হয় এবং সেখানে দাম্পত্য সম্পর্ক (স্বামী-স্ত্রী মিলন) হয়, এরপর কখনও যদি ওই স্বামী মৃত্যুবরণ করে বা সে তাকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে ওই স্বামীর মৃত্যু বা তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তারা উভয়ে চাইলে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
উল্লেখ্য, তালাক হচ্ছে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্নকারী চূড়ান্ত পদক্ষেপ। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা একেবারে জটিল হয়ে গেলে এবং সমস্যা নিরসনের আর কোনো উপায় না থাকলে তা থেকে নিষ্কৃতির সর্বশেষ পথমাত্র। বিনা কারণে অথবা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়া কিংবা একসঙ্গে তিন তালাক দেওয়া—সবই অন্যায় ও গুনাহের কাজ। ক্ষেত্রবিশেষে তা স্ত্রী-সন্তানদের ওপর জুলুমও বটে। তাই মুসলমানদের এসব থেকে বিরত থাকা উচিত।
আরও উল্লেখ্য, তালাক যতদিন আগেই দেওয়া হোক, কম দিনের ব্যবধানে দেওয়া হোক বা বেশি দিনের; উভয় ক্ষেত্রেই তা জমা থাকে। তালাক দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হওয়ার কারণে তা বাতিল হয়ে যায় না। তাই দীর্ঘদিন পরপর একটি করে তালাক দিলে পূর্বের তালাক বাতিল হয়ে যায়—এ কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুল কথা।
—সূরা বাকারা (০২) : ২২৮, ২৩০; সহীহ বুখারী, হাদীস ৫২৬১; কিতাবুল আছল ৪/৩৯২, ৪০৩, ৫১৬; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৮২, ২৯৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৪৮৪; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৩৫
দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো ভুলত্রুটি বা মতবিরোধ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যার সমাধানের চেষ্টা না করে সামান্য কারণে বা ক্ষোভের বশে বিচ্ছেদের দাবি তোলা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হাদিসে পাকে এসেছে, হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন—
أَيُُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلَاقًا مِنْ غَيْرِ بَأْسٍ، فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ
‘যে কোনো নারী কোনো বিশেষ অসুবিধা (যথার্থ কারণ) ছাড়াই স্বামীর কাছে তালাক চায়, তার জন্য জান্নাতের সুঘ্রাণও হারাম হয়ে যায়।’ (আবু দাউদ ২২২৬)

-6aa65b324c359.jpg)