পরিবারকে না জানিয়ে পছন্দের মানুষকে বিয়ে, ইসলামে কি বৈধ?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামে বিবাহ কেবল একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, এটি একটি সামাজিক চুক্তি, যা পরিবার, বংশধারা এবং নৈতিকতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা তাদেরকে তাদের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে বিয়ে কর। (সুরা আন-নিসা ২৫)
কোনো মেয়েকে যদি কোনো ছেলে পালিয়ে নিয়ে গিয়ে কোর্টে বিয়ে করে, এমতবস্থায় মেয়ের পরিবারের কেউ উপস্থিত না থাকেন এবং তাদেরকে এ ব্যাপারে কিছু জানানোও হয়নি, এক্ষেত্রে তাদের বিবাহ হয়েছে, নাকি পুনরায় বিয়ে দিতে হবে?
এ ব্যাপারে ঢাকার উত্তরার জামিয়া ইমাম বুখারীর মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি কুরআন ও হাদিসের রেফারেন্স দিয়ে বলেন, বিবাহ একটি মহৎ ইবাদত। এটা নিছক সামাজিক কোনো রীতিনীতি নয়। যেখানে আমরা জীবনের ন্যূনতম বিষয়েও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে থাকি, সেখানে বিবাহের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ, গুরুগম্ভীর ও দূরদৃষ্টিসম্পৃক্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে কীভাবে পরিবারকে না জানিয়ে করার চিন্তা করি, বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
তিনি জানান, পরিবারের মুরব্বিদের না জানিয়ে/পালিয়ে বিয়ে করা শরিয়তের নীতি-আদর্শের সম্পূর্ণ খেলাফ। কেননা এখানে আবেগের চেয়ে বাস্তবতা, অভিজ্ঞতা এবং বর-কনের কাফায়াত (বিবাহ প্রত্যাশীদের সমতা)-এর পরিমাণ বেশি। নারী-পুরুষের বিবাহপূর্ব যেকোনো সম্পর্ককে শরিয়ত কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। এ কারণেই পর্দার বিধান দিয়েছে। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, মানুষ হারাম সম্পর্ককে ভালোবাসার ছদ্মাবরণে আপন করে নিয়েছে। এর ফলে যেমনিভাবে ধ্বংস হচ্ছে ব্যক্তিজীবন, তেমনি পরিবার ও সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে হারাম সম্পর্কের সূচনার মধ্য দিয়ে আসা (যদিও বিয়ে করে বৈধ পদ্ধতিতেই সন্তান গ্রহণ করা হয়) আমাদের কোমলমতি সন্তানগুলোও। বাবা-মায়ের অবৈধ সম্পর্কের কুপ্রভাব থেকে সন্তানরাও মুক্ত থাকে না। আল্লাহতায়ালা আমাদের হেফাজত করুন। এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহের মৌলিক শর্ত হলো—
(১) ইজাব-কবুল (এক পক্ষের প্রস্তাব, আরেক পক্ষের গ্রহণ) বলা।
(২) দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর সম্মুখে বিবাহ সম্পন্ন হওয়া এবং উভয়ে একসঙ্গে ইজাব-কবুল শ্রবণ করা।
فى الدر المختار- ( و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا ) (الدر المختار ، كتاب النكاح،-৩/৯)
والله اعلم بالصواب
রাসুলুল্লাহ সা. এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অভিভাবক ছাড়া কোনো বিয়ে বৈধ নয়। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ২০৮৫, তিরমিজি, হাদিস নং ১১০১)
অন্য একটি হাদিসে তিনি বলেন, যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে, তার বিয়ে বাতিল। (তিরমিজি, হাদিস নং ১১০২, ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৮৭৯)

