পরিবেশ-জনস্বাস্থ্যকে পৃথকভাবে দেখার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রোমে শুরু হওয়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বৈশ্বিক সম্মেলনে পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
তিনি বলেছেন, মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও বাস্তুতন্ত্রকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতাও এসব খাতের সম্মিলিত সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইতালির রাজধানী রোমে এফএওর সদর দপ্তরে শুরু হওয়া ‘কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় ওয়ান হেলথ কার্যক্রম’ বিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন চলবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
মন্ত্রী বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ ও নিম্নভূমির গঙ্গা বদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও পরিবেশ বিপর্যয়ের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। একই ভূদৃশ্যে মানুষ, বাস্তুতন্ত্র এবং কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে একটি খাতে চাপ তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুত অন্য খাতেও পড়ে।
তিনি বলেন, পরিবেশ, প্রাণী ও জনস্বাস্থ্যকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে ওয়ান হেলথের আওতায় এসব বিষয়কে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ ওয়ান হেলথকে শুধু একটি ধারণা হিসেবে নয়, বরং বাস্তব শাসনব্যবস্থার নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাঠামো গড়ে তুলছে।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়, তথ্য বিনিময় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রকে কেন্দ্রীয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা এবং জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে টেকসই সমন্বয় গড়ে তুলতে পরিকল্পিত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন উল্লেখ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় ওয়ান হেলথ কাঠামোয় পরিবেশ খাতকে মূল অংশীজন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যৌথ পরিকল্পনা ও সম্পদের মাধ্যমে এ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে হবে।
প্রস্তাবিত ওয়ান হেলথ তথ্যকেন্দ্র দেশগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় কপ৩১-এর আগে রোমের এ সম্মেলনকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সম্মেলনের আলোচনার অভিজ্ঞতা কপ৩১-এর আলোচনায় তুলে ধরবে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে জলবায়ু ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিষয়ে আরও সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতেও কাজ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জের অভিজ্ঞতা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকেও শিখতে প্রস্তুত। সম্মেলনের আলোচনা যেন বাস্তব কর্মসূচি, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রূপ নেয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
উদ্বোধনী অধিবেশনে এফএওর মহাপরিচালক ডংইউ কিউ, সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন, তানজানিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মউগিলু নচেম্বা, সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী দুরো মাকুত, মোজাম্বিকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী উসেনে হিলারিও, কেপ ভার্দের কৃষিমন্ত্রী এভেলিন নায়ের মন্টেইরো রামোস, ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী জেনেভার্ড অ্যানি, আয়ারল্যান্ডের কৃষিমন্ত্রী টি ডি মার্টিন হেইডনসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
