সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রযুক্তি অংশীদারত্ব নিয়ে সরকারের সংলাপ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৪ এএম
বক্তব্য রাখছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির উদ্যোক্তা, পেশাজীবী এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংলাপ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির কাছে অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেডার হলে স্থানীয় সময় রোববার ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’ আয়োজন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যাওয়া প্রতিনিধি দলের একটি অংশ ওই সংলাপে যোগ দেন।
সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন- আর্থিক নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও দক্ষ কর্মসংস্থানকে কীভাবে সমর্থন দেওয়া যায়, তা মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার।
সম্ভাব্য প্রকল্প, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক সহযোগী এবং স্পষ্ট পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যে কোনো সহযোগিতা যেন জনসেবার উন্নতি ঘটায় এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করে সে বিষয়ে জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
সংলাপে বাংলাদেশের জন্য এআই প্রযুক্তির বিষয়ে উপস্থাপনা দেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-চ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক শরীফা সুলতানা, উবারের প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক মোস্তফা পাটওয়ারি।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং এর ইকোসিস্টেম উন্নয়ন নিয়ে উপস্থাপনা করেন গ্লোবালফাউন্ড্রির মাহবুব রাশেদ।
সংলাপে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ার অধ্যাপক সাইফ ইসলামের সঞ্চালনায় ‘মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজির’ ওপর একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রেডো সেমিকন্ডাক্টরের শাতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ইউসুফ হক, ইনটেলের সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআই-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা বদরুল সরকার এই প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন।
সংলাপে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অর্জনের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একইসঙ্গে তাদের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতি। এর কেন্দ্রে রয়েছে প্রযুক্তি স্থানান্তর, জনশক্তির উন্নয়ন এবং বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুল ইসলাম এবং লস এঞ্জেলসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল।

