চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত নেতা লতিফুর
আ.লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দিন, দায়দায়িত্ব আমাদের
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আওয়ামী লীগের লোকজনকে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সাবেক এমপি অধ্যাপক লতিফুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে যোগ দিলে তাদের দায়দায়িত্ব তারা নেবেন। আইন-আদালত, থানা-পুলিশ সবকিছুই তারা দেখবেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকেও জামায়াতে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া মদনমোড় গ্রামে এক উঠান বৈঠকে জামায়াত নেতা এই আহ্বান জানান। লতিফুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে দুইবারের সাবেক সংসদ-সদস্য এবং জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির। তার এই বক্তব্যের ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অধ্যাপক লতিফুর রহমান ওই বৈঠকে বলেন, ‘আগামী দিনের বাংলাদেশে একটি পরিবর্তন হতে চলেছে। আমাদের দলে আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে আসবেন, আপনাদের দায়দায়িত্ব আমরা নেব। জেলখানা, নবাবগঞ্জ থানায়, যে কোনো দায়দায়িত্ব আমরা নেব ইনশাআল্লাহ। আপনারা আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে জয়েন করেন, বিএনপি থেকে জয়েন করেন।
আপনাদের দায়িত্ব নেব। জামায়াতে ইসলামীকে সে আইগল্যা জামাতি (আগের জামায়াত) মনে করিয়েন না। এখন শক্তিশালী জামায়াত।’
লতিফুর রহমান বলেন, ‘নবাবগঞ্জের সমগ্র সমস্যা এখন লতিফুর রহমান দেখে। হ্যালো ওসি সাহেব, হ্যালো এসপি সাহেব, হ্যালো ডিআইজি সাহেব, লতিফুর রহমান ছাড়া কোনো নেতার কাছে মানুষরা যায় না। কী, কথা ঠিক না?’ এ সময় কয়েকজন ‘ঠিক-ঠিক’ বলেন। লতিফুর বলতে থাকেন, ‘এজন্য যারা আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন, নির্দ্বিধায় এখানে থাকবেন। আপনাদের আইন-আদালত, কোর্ট-কাচারি, থানা আমরা দায়িত্ব নেব। আমরা বিএনপির লোকদের দাওয়াত দিচ্ছি। আমরা হিন্দু ভাইদের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছি।’ আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দেওয়া একজনের উদাহরণ দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমার ছোট ভাই দুলাল আওয়ামী লীগের লোক ছিল, আজকে জামায়াতে ইসলামের লোক হয়েছে। অপরাধ করেছে? কী বলেন, অপরাধ করেছে? বরং তিনি বেঁচে গেছেন জাহান্নামের আগুন থেকে। আমি নিজেও আওয়ামী লীগ পরিবারের ছেলে। আমি একাত্তরের শহীদ পরিবারের ছেলে। আমি দেশ স্বাধীনের জন্য ’৬৯ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত কাজ করেছি। আমি ১৯৭৬ সালে মুসলমান হয়েছি। আমাকে মুসলমান বানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।’
লতিফুর বলেন, ‘আমি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কাছে ঋণী। আমাকে কুরআন শিখিয়েছে। নামাজ শিখিয়েছে। মুসলমানের কায়দা শিখিয়েছে। আইনকানুন শিখিয়েছে। ইসলাম সম্পর্কে ধারণা দিয়েছে। আর আজকে কী? যারা আওয়ামী লীগ করত, জামায়াতে আইসছে (আসছে), ওরঘে (ওদের) বাড়ি পুলিশ পাঠাচ্ছে। আমি এখান থেকেই বলে দিলাম ডিবি পুলিশকে। এভাবে ডিস্টার্ব করবেন না।’
বৈঠক থেকে বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত নেতা বলেন, ‘আপনারা এত বেহুঁশ হয়ে কথা বলছেন কেন? আপনারা আমাদেরকে রগ কাটা পার্টি বলছেন কেন? কেন এগুলা কথা বলছেন? মানুষের যখন বলার কিছু থাকে না, তখন আবোলতাবোল কথা বলে, তাই না? একটি কথা আছে, রাইগল্যা তো হাইরল্যা। এই কথা আর বলিও না। এগুলো জনগণ আর খাচ্ছে না। নতুন কথা নিয়ে আসেন। কী করেছেন, আগামীতে কী করবেন, এই বক্তব্য নিয়ে আসেন।’
লতিফুর বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আগামী দিনে বাংলাদেশে একটি পরিবর্তন হচ্ছে, আপনারা দোয়া করেন। আমরা চেয়েছিলাম আলেমরা ঐক্যবদ্ধ হবে। আলেম-ইসলামের নামে যত দল আছে, ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এরপর বিএনপির দুজন সাবেক মন্ত্রী জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে এখন। নাম হলো মেজর আক্তার এবং কর্নেল অলি আহমদ। তাহলে তাদেরকে বলেন, জামায়াতে আইল কেন ওরা। ওরা বুঝতে পেরেছে, ওখানে থেকে লাভ হবে না।’
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে লতিফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘না উগলা বলিনি। আমি বলেছি, দল-মতনির্বিশেষে ইসলামের পথে আপনারা আসেন। হিন্দু ভাইয়েরা, আওয়ামী লীগ ভাইয়েরা, বিএনপির ভাইয়েরা, সব আসেন। এভাবে বলেছি। আমি বলেছি, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আওয়ামী লীগ-যা আছে সব। আপনারা আল্লাহর আইন কায়েমের পথে আসেন। এতটুকুই।’
